২০০, ৫০০ আর ১,০০০ টাকার ফ্যামিলি কার্ড দিয়ে হাজার হাজার টাকা অন্যায়ভাবে নেওয়া হচ্ছে, এই ফ্যামিলি কার্ড আমরা চাই না - মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম
বড়লেখায় জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে গণভোটের রায় ও জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং গণহত্যার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মৌলভীবাজার জেলা কর্মপরিষদ ও শুরা সদস্য এবং মৌলভীবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম।
সমাবেশে তিনি বলেন, “গত এক মাসে সারাদেশে যেভাবে বিদ্যুতের বিল এসেছে, তা সাধারণ মানুষের জন্য বড় ধরনের বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। একদিকে সরকার ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলে, অন্যদিকে ২০০, ৫০০ কিংবা ১,০০০ টাকার সুবিধার কথা দেখিয়ে মানুষের কাছ থেকে হাজার হাজার টাকা অন্যায়ভাবে আদায় করছে। এই ফ্যামিলি কার্ড আমরা চাই না।
তিনি আরও বলেন, “এভাবে চলতে থাকলে দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়বে। উন্নয়নের নামে ও বিভিন্ন প্রকল্পের নামে দুর্নীতি করে জনগণকে শুধু আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে। জনগণ আর এমন শাসনব্যবস্থা দেখতে চায় না।”
ছাত্র রাজনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যদি কোনো ছাত্রসংগঠনকে মানুষ হত্যা বা সহিংসতার সুযোগ দেওয়া হয়, তবে জুলাইয়ের আন্দোলনে অংশ নেওয়া তরুণরা আবারও রাজপথে নামবে। তাদের সঙ্গে দেশের কোটি কোটি মানুষ থাকবে।”
তিনি আরও দাবি করেন, অতীতের মতো দমন-পীড়ন চালানোর চেষ্টা করা হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সরকারবিরোধী বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বড়লেখা উপজেলার ভারপ্রাপ্ত আমীর মাওলানা ইসলাম উদ্দিনের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা নায়েবে আমীর ফয়সাল আহমদ, নায়েবে আমীর আব্দুল্লাহ আল মাহফুজ সুমন, উপজেলা সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আব্দুল বাছিত, পেশাজীবী সংগঠনের উপজেলা সভাপতি আব্দুল মোহাইমিন, যুব বিভাগের উপজেলা সভাপতি কামাল উদ্দিন এবং ওলামা বিভাগের সাধারণ সম্পাদক প্রিন্সিপাল মুফতি জিয়াউল হক।
এছাড়াও সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলে জামায়াতে ইসলামীর বড়লেখা উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, বিভিন্ন ওয়ার্ডের নেতাকর্মী এবং বিপুলসংখ্যক সমর্থক অংশগ্রহণ করেন।
বক্তারা গণভোটের রায় ও জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং গণহত্যার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত ও নিরপেক্ষ বিচারের দাবি জানান।
সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে ইসলামী ব্যাংকের সামনে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী ছাত্রশিবিরসহ স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা অংশ নেন।
