বড়লেখায় মুন্নির রহস্যজনক মৃত্যু, হত্যার অভিযোগ পরিবারের—বিচারের দাবিতে ০৪ সেপ্টেম্বর মানববন্ধন
মৌলভীবাজারের বড়লেখায় গৃহবধূ মরিয়ম আক্তার মুন্নির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে নানা অভিযোগ তুলেছে তাঁর পরিবার। পরিবারের দাবি, শ্বশুরবাড়ির লোকজন নির্যাতনের পর মুন্নির মরদেহ বাথরুমের কাঠের বীমের সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে প্রচার করেছে। তবে পুলিশ বলছে, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে এবং ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে মুন্নির বাবা হাজী মকবুল আলী ও মা রেনু বেগম এসব অভিযোগ করেন। তাদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মুন্নির খালাতো ভাই মাছুম আহমদ।
পরিবারের দাবি, ২০২৩ সালে মুন্নির সঙ্গে মুড়িরগুল গ্রামের সৌদি আরবপ্রবাসী মামুনুর রশিদ লাভলুর বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই শ্বশুরবাড়িতে তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো। সম্প্রতি স্বামীর জন্য সৌদি আরবে গাড়ি কেনার কথা বলে বাবার বাড়ি থেকে পাঁচ লাখ টাকা এনে দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা।
পরিবার আরও জানায়, ঘটনার আগে মুন্নি ভিডিও ও খুদে বার্তার মাধ্যমে বাবা-মাকে নির্যাতনের কথা জানিয়েছিলেন। একপর্যায়ে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, তাকে যেকোনো সময় মেরে ফেলা হতে পারে।
গত ২১ আগস্ট বিরোধের পর মুন্নির মৃত্যুর খবর পেয়ে তাঁর বাবা শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে বাথরুমের কাঠের বীমের সঙ্গে মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরিবারের দাবি, মরদেহে আঘাতের চিহ্নও ছিল। এ কারণে ঘটনাটি আত্মহত্যা নয়, পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড কি না তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন তারা।
মুন্নির মোবাইল ফোন উদ্ধার, ভিডিও ও খুদে বার্তা এবং অন্যান্য আলামত সংরক্ষণ করে ফরেনসিক পরীক্ষা, সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে পরিবার।
এদিকে পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার পর তারা ভয়ভীতি ও হুমকির মুখে রয়েছেন এবং একটি প্রভাবশালী মহল ঘটনাটি ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করছে।
বড়লেখা থানার ওসি মনিরুজ্জামান খান বলেন, লাশ উদ্ধারের পর অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মুন্নি হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের দাবিতে ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বড়লেখা শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে সর্বস্তরের জনসাধারণের ব্যানারে প্রতিবাদী মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়েছে।
মানববন্ধন থেকে মুন্নির মৃত্যুর সঠিক কারণ উদ্ঘাটন, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হবে।
