বড়লেখায় গোপন বিয়ের জেরে যুবকের মৃত্যু, নির্যাতনের অভিযোগ


মৌলভীবাজারের বড়লেখায় প্রেমের সম্পর্কের জেরে গোপন বিয়েকে কেন্দ্র করে মো. সুফিয়ান আহমদ (২৪) নামে এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, স্ত্রীকে দিয়ে ডেকে নিয়ে নির্যাতন চালিয়ে মুখে বিষ ঢেলে দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাতে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পরদিন শুক্রবার সকালে সিলেট কোতোয়ালি থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্ত শেষে দুপুরে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
নিহত সুফিয়ান বড়লেখা উপজেলার গল্লাসাঙ্গন গ্রামের ইসলাম উদ্দিনের ছেলে। এ ঘটনায় বড়লেখা থানায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সদর ইউনিয়নের রাঙাউটি গ্রামের আব্দুল করিমের মেয়ে লিজা বেগম (২২)-এর সঙ্গে সুফিয়ানের দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। চলতি বছরের ২৮ এপ্রিল তারা এফিডেভিটের মাধ্যমে গোপনে বিয়ে করেন। তবে বিয়ের বিষয়টি উভয় পরিবারের কাছে গোপন রাখা হয় এবং লিজা তার বাবার বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন।
সম্প্রতি মেয়ের পরিবার গোপন বিয়ের বিষয়টি জানতে পেরে ক্ষুব্ধ হয়। অভিযোগ রয়েছে, ২৭ জুন রাতে লিজা বেগমের মাধ্যমে ফোন করে সুফিয়ানকে তাদের বাড়িতে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে নিয়ে তার ওপর নির্যাতন চালানো হয় এবং একপর্যায়ে তার মুখে বিষ ঢেলে দেওয়া হয়।

পরে তাকে বিষক্রিয়াজনিত অসুস্থ বলে বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে ২৮ জুন তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাতে তার মৃত্যু হয়।
নিহতের বাবা ইসলাম উদ্দিন অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে তার ছেলেকে ডেকে নিয়ে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে এবং ঘটনাটি আড়াল করতে মুখে বিষ ঢেলে দেওয়া হয়েছে। দাফন সম্পন্নের পর এ ঘটনায় তিনি থানায় হত্যা মামলা করবেন বলে জানান।
এ বিষয়ে সিলেট কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বিপুল দাস জানান, লাশ উদ্ধারের পর সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে এবং মরদেহের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে ময়নাতদন্ত শেষে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে কাজ করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url