মৌলভীবাজারের জুড়ীতে কুড়ালের আঘাতে পিতাকে হত্যার ঘটনায় ছেলে গ্রেফতার, আদালতে স্বীকারোক্তি

 

জুড়ী উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে নিজ পিতাকে কুড়াল দিয়ে হত্যার ঘটনায় সৌদি প্রবাসী ছেলে মোঃ ফয়াজ মিয়াকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারের পর তিনি বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন।

গত ২৬ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ রাত আনুমানিক ৮টায় জুড়ী থানাধীন ৮নং গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নের মন্ত্রিগাঁও গ্রামে পারিবারিক বিরোধের একপর্যায়ে ফয়াজ মিয়া তার পিতা সুলতান আলীকে পেছন দিক থেকে কুড়াল দিয়ে আঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পর আসামি বিষয়টিকে দুর্ঘটনা হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করে এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর কৌশলে পালিয়ে যায়। পরদিন দাফনের সময় তার অনুপস্থিতি এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ নিশ্চিত হলে মরদেহ দাফন না করে পুলিশকে অবহিত করা হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে এবং নিহতের ছেলে সাহেদ মিয়ার দায়ের করা এজাহারের ভিত্তিতে জুড়ী থানায় হত্যা মামলা রুজু হয়।

মামলার তদন্তকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকার কদমতলী থানাধীন পাগলা ওয়াসা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে একটি প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা কর্মী হিসেবে কর্মরত অবস্থায় আসামি ফয়াজ মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়।

পরবর্তীতে ০৪ জুলাই ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ গ্রেফতারকৃত আসামিকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।

অপরাধ দমন এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় বাংলাদেশ পুলিশ পেশাদারিত্ব, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url