ভারতকে প্রকাশ্য শত্রু হিসেবে চিহ্নিত না করলে দেশের প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয় - বড়লেখায় মুফতি ফয়জুল করীম
মৌলভীবাজারের বড়লেখায় বাংলাদেশ মুজাহিদ কমিটি দক্ষিণ ভাগ ও আলহেরা যুবকল্যাণ পরিষদ কাশেমনগরের উদ্যোগে কাশেমনগর আদর্শ গ্রাম ক্লাব মাঠে বিশাল ওয়াজ মাহফিল ও হালকায়ে জিকির অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান মেহমান হিসেবে উপস্থিত থেকে গুরুত্বপূর্ণ বয়ান পেশ করেন নায়েবে আমীরুল মুজাহিদীন আলহাজ্ব হযরত মাওলানা মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম (শায়েখে চরমোনাই)।
বুধবার (১০ জুন) রাতে কাসেম নগর দক্ষিণ ভাগ জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে মাহফিলটি অনুষ্ঠিত হয় উক্ত মাহফিলে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণ, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সীমান্ত নিরাপত্তা ও দেশের ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে বক্তব্য প্রদানকালে এক পর্যায়ে মুফতি ফয়জুল করীম বলেন,“ভারতকে প্রকাশ্য শত্রু হিসেবে চিহ্নিত না করলে দেশের প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আইন-শৃঙ্খলা, অর্থনৈতিক সংকট এবং জাতীয় স্বার্থ নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম বলেন, দেশের মানুষ শান্তিতে বসবাস করতে চায়। কিন্তু বর্তমানে দেশে খুন, গুম ও ধর্ষণের মতো অপরাধ উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির এই অবনতি কোনোভাবেই কাম্য নয়।
তিনি বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষ দিশেহারা। গ্যাস, তেল, বিদ্যুৎসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্যের দাম ক্রমাগত বাড়ছে। তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বর্ধিত গ্যাস ও বিদ্যুতের বিল কমিয়ে সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আনতে হবে এবং নিত্যপণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
সীমান্ত পরিস্থিতি ও পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্পষ্ট হয়ে গেছে বাংলাদেশের প্রকৃত বন্ধু ও শত্রু কারা। তিনি দাবি করেন, যতদিন পর্যন্ত বাংলাদেশ ভারতের প্রভাববলয় থেকে বেরিয়ে এসে জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব না দেবে এবং ভারতকে প্রকাশ্য শত্রু হিসেবে চিহ্নিত না করবে, ততদিন দেশের প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব হবে না।
নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে তিনি বলেন, ইসলামের পক্ষে ও দেশের জাতীয় স্বার্থে যারা একসঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী, তাদের সঙ্গে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে। তবে প্রয়োজন হলে দলটি এককভাবেও রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রস্তুতি রাখবে।
অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সরকারের তিন মাসের সফলতা ও ব্যর্থতা নিয়ে বক্তব্য দেন শায়েখে চরমোনাই। তিনি বলেন, ইসলামের পক্ষে যারা আসবে আমরা তাদের পক্ষে থাকবো। আর ইসলামের পক্ষে যদি কেউ না আসে আমরা একাই পথ চলবো।
তিনি দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দিন দিন অবনতি হচ্ছে। গ্যাসের দাম বারবার বৃদ্ধি পেয়েছে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দামও লাগামহীনভাবে বাড়ছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ মেহমান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মুজাহিদ কমিটি সিলেট বিভাগের কেন্দ্রীয় সহকারী ইমাম কাম-অডিটর হযরত মাওলানা রেদওয়ানুল হক চৌধুরী রাজু।
মাহফিলে স্থানীয় ও দূর-দূরান্ত থেকে আগত বিপুল সংখ্যক ধর্মপ্রাণ মুসল্লি অংশগ্রহণ করেন। পরে শায়েখে চরমোনাই কাশেমনগর যুব আন্দোলনের কার্যালয় উদ্বোধন করেন।
