চামড়া বিক্রি না করে ফেলে দেওয়া হচ্ছে নদীতে
কোরবানির পশুর চামড়ার ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় বিয়ানীবাজার উপজেলার কুড়ারবাজার ইউনিয়নে ঘটেছে ব্যতিক্রমী ও হতাশাজনক ঘটনা। দীর্ঘদিন ধরে যে চামড়া হাজার হাজার টাকায় বিক্রি হতো, সেই একই চামড়া এবার ব্যবসায়ীরা মাত্র ১০ থেকে ১২ টাকা দরে কিনতে চাওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও এলাকাবাসী। শেষ পর্যন্ত বিক্রি না করে শতাধিক চামড়া পার্শ্ববর্তী কুশিয়ারা নদীতে ফেলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতি বছরের মতো এবারও কোরবানির ঈদে কুড়ারবাজার ইউনিয়নে শতাধিক পশু কোরবানি করা হয়। অতীতে এসব গরুর চামড়া প্রতি পিস ৪ হাজার থেকে ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতো। কিন্তু এবার বাজারে চরম ধস নামায় ব্যবসায়ীরা প্রতিটি চামড়ার মূল্য মাত্র ১০ থেকে ১২ টাকা প্রস্তাব করেন। তাও আবার শর্ত ছিল চামড়াগুলো সিলেট পর্যন্ত পৌঁছে দিতে হবে।
এ নিয়ে স্থানীয় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও মুরুব্বিরা বৈঠকে বসেন। পরে তারা সিদ্ধান্ত নেন, এত কম দামে চামড়া বিক্রি করে পরিবহন খরচ বহন করার চেয়ে বিক্রি না করাই ভালো। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সন্ধ্যার পর চামড়াগুলো কুশিয়ারা নদীতে ফেলে দেওয়া হয়।
ঘটনার একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, “এই প্রথম আমরা ১১০টি চামড়া বিক্রি করতে না পেরে নদীতে ফেলে দিচ্ছি। ব্যবসায়ীরা ১০ থেকে ১২ টাকা করে দাম বলেছে, আবার নিজেদের খরচে সিলেট পৌঁছে দিতে বলেছে। এতে চামড়া বিক্রির টাকার চেয়ে খরচই বেশি হয়ে যেত।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, চামড়া শিল্পকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা সিন্ডিকেট ও বাজার নিয়ন্ত্রণের কারণেই দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় এই শিল্প আজ ধ্বংসের মুখে পড়েছে। তারা মনে করছেন, সরকারের সঠিক নজরদারি ও কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় প্রতিবছরই চামড়া নিয়ে এমন সংকট তৈরি হচ্ছে।
চামড়া শিল্প দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক খাত হলেও ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় কোরবানির মৌসুমে হতাশা বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। এলাকাবাসী দ্রুত এ সংকট সমাধানে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
