স্কাউটসের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পেল বড়লেখার আর.কে লাইসিয়াম স্কুলের শিক্ষার্থী আকিলা
স্বপ্ন, শৃঙ্খলা আর অধ্যবসায়ের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে বাংলাদেশ স্কাউটসের কাব স্কাউট শাখার সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা “শাপলা কাব অ্যাওয়ার্ড ” অর্জন করেছে মৌলভীবাজারের বড়লেখার মেধাবী শিক্ষার্থী আকিলা ফারহা। তার এই গৌরবময় অর্জনে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সহপাঠী ও স্থানীয়দের মাঝে বইছে আনন্দের উচ্ছ্বাস।
বড়লেখা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী রোকেয়া খাতুন লাইসিয়াম স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী আকিলা ফারহা ছোটবেলা থেকেই মেধা, শৃঙ্খলা ও নেতৃত্বগুণের পরিচয় দিয়ে আসছে। সে বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মোহাম্মদ দীদার হোসেন এবং পাথারিয়া গাংকুল মনসুরিয়া ফাযিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপিকা হাছিনা আক্তারের ছোট মেয়ে।
জানা গেছে, শাপলা কাব অ্যাওয়ার্ড বাংলাদেশ স্কাউটসের কাব স্কাউটদের জন্য সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত। এই মর্যাদাপূর্ণ সম্মাননা অর্জনের জন্য একজন কাব স্কাউটকে দীর্ঘ সময় ধরে কঠোর অনুশীলন, শৃঙ্খলাবোধ, নেতৃত্বের দক্ষতা, সামাজিক দায়িত্ববোধ ও বিভিন্ন পারদর্শিতা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়। আকিলা ফারহাও নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি স্কাউটিংয়ের কঠোর নিয়ম-কানুন অনুসরণ করে ধাপে ধাপে নিজেকে প্রস্তুত করেছে। স্থানীয়, জেলা ও আঞ্চলিক পর্যায়ের ধারাবাহিক মূল্যায়নে সফলভাবে উত্তীর্ণ হওয়ার পর জাতীয় পর্যায়ে লিখিত, মৌখিক, ব্যবহারিক এবং সাঁতারসহ বিভিন্ন কঠিন পরীক্ষায় অংশ নেয় সে। সবগুলো ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন করার পর চূড়ান্তভাবে শাপলা কাব অ্যাওয়ার্ড -এর জন্য মনোনীত হয় আকিলা।
বাংলাদেশ স্কাউটস সূত্রে জানা যায়, প্রোগ্রাম বিভাগের ব্যবস্থাপনায় ২০২৫ সালের জাতীয় পর্যায়ের শাপলা কাব অ্যাওয়ার্ড প্রার্থীদের লিখিত পরীক্ষা গত ২৮ মার্চ ২০২৬ তারিখে সারাদেশে একযোগে অনুষ্ঠিত হয়। পরে লিখিত পরীক্ষায় নির্বাচিতদের মৌখিক, ব্যবহারিক ও সাঁতার মূল্যায়ন অনুষ্ঠিত হয় ২ মে। ধারাবাহিক মূল্যায়ন শেষে গত ১৭ মে প্রকাশিত ফলাফলে সারাদেশের ১ হাজার ৯৩৭ জন কাব স্কাউটকে চূড়ান্তভাবে শাপলা কাব অ্যাওয়ার্ডের জন্য মনোনীত করা হয়। সেই তালিকায় জায়গা করে নেয় আকিলা ফারহা।
শাপলা কাব অ্যাওয়ার্ড অর্জনের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে আকিলা ফারহা বলে, এই অ্যাওয়ার্ড অর্জন করতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত। আমার এই সফলতার পেছনে মা-বাবা, শিক্ষক ও স্কাউট লিডারদের অনুপ্রেরণা সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে। তাদের সহযোগিতা ছাড়া এই অর্জন সম্ভব হতো না। ভবিষ্যৎ স্বপ্ন সম্পর্কে জানতে চাইলে সে বলে, স্কাউটিং আমাকে শৃঙ্খলা, মানবিকতা ও দায়িত্ববোধ শিখিয়েছে। ভবিষ্যতে আমি একজন ভালো মানুষ ও যোগ্য নাগরিক হয়ে দেশের কল্যাণে কাজ করতে চাই। আকিলার বাবা মোহাম্মদ দীদার হোসেন বলেন, মেয়ের এই অর্জনে আমরা অত্যন্ত গর্বিত ও আনন্দিত। ছোটবেলা থেকেই সে পড়াশোনার পাশাপাশি স্কাউটিং কার্যক্রমে আন্তরিক ছিল। আমরা চাই, আকিলা ভবিষ্যতে একজন সৎ, মানবিক ও দেশপ্রেমিক মানুষ হিসেবে গড়ে উঠুক।
তথ্যঃ বড়লেখার সময়
