ক্যান্সার আক্রান্ত মেয়েকে বাঁচাতে বাড়িঘর বিক্রি করেছিলেন বাবা, জাফরের এক ভিডিওতেই বদলে গেল অসহায় পরিবারের ভাগ্য
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার বরমচাল ইউনিয়নের আলিনগর গ্রামে আবারও মানবতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন কন্টেন্ট ক্রিয়েটর জাফর আহমেদ। ক্যান্সারে আক্রান্ত এক অসহায় তরুণীর চিকিৎসার জন্য মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে সহযোগিতা সংগ্রহ করে তিনি এখন প্রশংসায় ভাসছেন বরমচালসহ পুরো সিলেট বিভাগজুড়ে।
জানা যায়, আলিনগর গ্রামের বিলকিস মিয়ার মেয়ের কেমোথেরাপিসহ চিকিৎসার জন্য প্রায় ৪ লাখ টাকা প্রয়োজন হয়। ব্যয়বহুল চিকিৎসার খরচ বহন করতে গিয়ে পরিবারটি চরম অসহায় হয়ে পড়ে। মেয়ের চিকিৎসা চালিয়ে নিতে বিলকিস মিয়া নিজের সঞ্চয় শেষ করার পাশাপাশি ঘর ও আসবাবপত্র বিক্রি করেও প্রয়োজনীয় অর্থ জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছিলেন।
এ অবস্থায় মানবিক উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে আসেন বড়লেখার তরুণ কন্টেন্ট ক্রিয়েটর জাফর আহমেদ। তার প্রকাশিত প্রথম ভিডিওর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সহযোগিতায় সংগ্রহ হয় ৯৩ হাজার ১৫ টাকা। পরে আমেরিকা প্রবাসী এক মানবিক নারীর কাছ থেকে আরও ৫০ হাজার টাকা সংগ্রহ করেন তিনি। সবমিলিয়ে ১ লাখ ৪৩ হাজার ১৫ টাকা এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে রোগীর বাবার হাতে তুলে দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে চিকিৎসার পুরো ব্যয় নিশ্চিত করতে রোগীর বাবার বিকাশ নম্বর প্রকাশ করে পুনরায় সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়। সর্বশেষ জাফর আহমেদ জানান, মানুষের আন্তরিক সহযোগিতায় কেমোথেরাপির জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের চেয়েও বেশি টাকা সংগ্রহ হয়েছে এবং তা রোগীর পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে ওই তরুণী সিলেটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ১নং বরমচাল ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম রাজিবসহ এলাকার মুরব্বিদের উপস্থিতিতে পুরো অর্থ হস্তান্তর করা হয়।
জাফর আহমেদ বলেন, “আমি মানুষের কাছে শুধু কেমোথেরাপির জন্য সহযোগিতা চেয়েছিলাম। তবে পরবর্তীতে রোগীর অপারেশন প্রয়োজন হবে। সেই খরচ এখনো নির্ধারণ হয়নি। তাই বাকি অর্থ সংরক্ষণ করা হয়েছে এবং প্রয়োজন হলে এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে রোগীর পরিবারের হাতে তা তুলে দেওয়া হবে।”
তিনি সহযোগিতাকারী সকল মানবিক মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তাদের জন্য মহান আল্লাহর কাছে দোয়া কামনা করেন।
এদিকে, জাফর আহমেদের এই মানবিক উদ্যোগকে ঘিরে বরমচালসহ পুরো সিলেট বিভাগে ব্যাপক প্রশংসার সৃষ্টি হয়েছে।
