লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ বড়লেখার শিক্ষার্থীরা, পরীক্ষা চলাকালীন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের দাবিতে ইউএনও বরাবর স্মারকলিপি প্রদান
রাহিন আহমদ নোবেল:
এসএসসি ও স্নাতক পরীক্ষা চলাকালীন মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার গ্রামাঞ্চলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গড়ে ২০-২২ ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থীরা।
বুধবার দুপুরে ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ বড়লেখা সরকারি কলেজ শাখার সদস্য সচিব ও কলেজের স্নাতক ২য় বর্ষ পরীক্ষার্থী কিবরিয়া আল মাহমুদের নেতৃত্বে শিক্ষার্থীরা ইউএনও কার্যালয়ে এ স্মারকলিপি জমা দেন।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, গত ২০ এপ্রিল থেকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক ২য় বর্ষ এবং ২১ এপ্রিল থেকে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬ শুরু হয়েছে। অথচ গত এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে বড়লেখার গ্রামাঞ্চলে অসহনীয় লোডশেডিং চলছে। বিশেষ করে সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত পিক আওয়ারে দফায় দফায় বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে, যা পরীক্ষার চূড়ান্ত প্রস্তুতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়।
স্মারকলিপিতে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১৭ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করা এবং ১৫ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী শিক্ষাসহ জীবনধারণের মৌলিক উপকরণের ব্যবস্থা করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব বলে উল্লেখ করা হয়। বর্তমান বিদ্যুৎ পরিস্থিতি সুষ্ঠু পরীক্ষার পরিবেশকে সম্পূর্ণভাবে বিনষ্ট করছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা চলাকালীন অন্তত আগামী এক মাসের জন্য বড়লেখা উপজেলাকে লোডশেডিংমুক্ত রাখার দাবি জানান। বিশেষ করে প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার জন্য ইউএনও’র হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
স্মারকলিপি প্রদানকালে কিবরিয়া আল মাহমুদের সাথে উপস্থিত ছিলেন তালামিযে ইসলামিয়া কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক ও স্নাতক ২য় বর্ষ পরীক্ষার্থী কামরান আহমদ, স্নাতক ২য় বর্ষ পরীক্ষার্থী মাহফুজুর রহমান, আতিকুর রহমান, মাহবুবুর রহমান, আব্দুস সালাম এবং বড়লেখা সরকারি ডিগ্রি কলেজ ছাত্র শিবিরের কর্মী ও কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী নাহিদ আহমদ ও মাহফুজ ইসলাম ।
এ বিষয়ে বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহবুব আলম জানান, “পরীক্ষার্থীদের স্মারকলিপি পেয়েছি। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মানবিক। আমরা জরুরি ভিত্তিতে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সাথে সমন্বয় করে পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে ব্যবস্থা নিচ্ছি।
