ফেসবুকে ভুয়া অপবাদ, বন্ধুকে হেনস্তা করতে সাজানো পোস্ট, বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে দুই ছবি
![]() |
| ছবিঃ সংগৃহীত |
সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দুটি ছবি ঘিরে ব্যাপক আলোচনা ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। একটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে কয়েকটি কাঁচা ডাব মাটিতে রাখা, আরেকটি ছবিতে একজন ব্যক্তির শরীরে আঘাতের চিহ্ন দৃশ্যমান। এসব ছবি ব্যবহার করে একটি পোস্টে দাবি করা হচ্ছে তারাবির নামাজ পড়তে গিয়ে ‘ডাব চুরি’ করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়ে গণপিটুনির শিকার হয়েছে বন্ধু।
তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, মিথ্যা ও বানোয়াট। প্রকৃতপক্ষে ঘটনাটির সঙ্গে নামাজ, চুরি কিংবা গণপিটুনির কোনো সম্পর্ক নেই। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সামাজিকভাবে হেনস্তা ও অপদস্থ করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এ ধরনের বিভ্রান্তিকর পোস্ট ছড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভাইরাল হওয়া পোস্টে দুইটি আলাদা ছবি পাশাপাশি ব্যবহার করে একটি কল্পিত গল্প দাঁড় করানো হয়েছে। ছবির সঙ্গে বাস্তব ঘটনার কোনো প্রমাণ বা নির্ভরযোগ্য সূত্র যুক্ত করা হয়নি। বরং আবেগতাড়িত ও উসকানিমূলক ভাষা ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভুল ধারণা সৃষ্টি করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের “ভিজ্যুয়াল ম্যানিপুলেশন” এখন সাধারণ কৌশল হয়ে দাঁড়িয়েছে। আলাদা প্রেক্ষাপটের ছবি জোড়া লাগিয়ে মিথ্যা বর্ণনা তৈরি করে ব্যক্তিগত শত্রুতা মেটানো বা কাউকে সামাজিকভাবে হেয় করার প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, যাদের নিয়ে পোস্টটি করা হয়েছে, তারা দাবি করেছেন পুরো ঘটনাই সাজানো। তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কোনো সত্যতা নেই। বরং ব্যক্তিগত বিরোধের জের ধরে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এমন অপপ্রচার চালানো হয়েছে।
তারা আরও বলেন, “একটি মিথ্যা গল্প বানিয়ে আমাদের সম্মানহানি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে কেউ যা খুশি লিখে দিলে তা সত্য হয়ে যায় না।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, কারও বিরুদ্ধে প্রমাণ ছাড়া চুরির মতো অভিযোগ আনা মানহানিকর অপরাধের শামিল। তথ্যপ্রযুক্তি আইন ও প্রচলিত আইনের আওতায় এ ধরনের অপপ্রচার দণ্ডনীয় হতে পারে।
সামাজিক মাধ্যমে কোনো তথ্য বা ছবি শেয়ার করার আগে তার সত্যতা যাচাই করা জরুরি। একটি ভুয়া পোস্ট একজন মানুষের ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।
সাম্প্রতিক এই ঘটনাটি আবারও প্রমাণ করেছে ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া সবকিছু সত্য নয়। ব্যক্তিগত আক্রোশ বা হাস্যরসের নামে কাউকে অপদস্থ করা অনৈতিক ও অপরাধযোগ্য।
সচেতন মহল মনে করছেন, এ ধরনের মিথ্যা ও বানোয়াট প্রচারণা বন্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা প্রয়োজন। একইসঙ্গে প্রশাসনেরও উচিত অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এভাবে অন্যকে হেনস্তা করার সাহস না পায়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আমাদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা দিয়েছে কিন্তু সেই স্বাধীনতার অপব্যবহার যেন কারও সম্মানহানির কারণ না হয়, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।
