জুড়িতে টিকটক প্রেম থেকে বাল্যবিবাহ, পুলিশি অভিযানে উদ্ধার কিশোর–কিশোরী
নিজস্ব প্রতিবেদক:
মৌলভীবাজারের জুড়ীতে টিকটকের মাধ্যমে পরিচয়ের পর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠা এক কিশোর–কিশোরীকে জোরপূর্বক বাল্যবিবাহ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওই কিশোর–কিশোরীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কুলাউড়া উপজেলার নবম শ্রেণির ছাত্র (১৫) ও পাশের জুড়ী উপজেলার এক কিশোরী (১৫) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে পরিচয়ের পর প্রেমের সম্পর্কে জড়ায়। শুক্রবার দুপুরে তারা জুড়ী উপজেলা সদরের একটি রেস্তোরাঁয় দেখা করতে গেলে মেয়ের স্বজনেরা সেখানে গিয়ে তাদের ধরে বাড়ি নিয়ে যায়। পরে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্যের উপস্থিতিতে এক ইমাম দিয়ে জোর করে তাদের বিয়ে দেওয়া হয়।
ছেলের স্বজনদের অভিযোগ, ঘটনার দিন থেকে ছেলেটির কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। তার মুঠোফোনও বন্ধ ছিল। রাতে এক বন্ধু ফোন করে জানায়, ছেলেটি তার সঙ্গে রেস্তোরাঁয় গিয়েছিল। পরে মেয়ের স্বজনেরা তাদের ধরে নিয়ে যায় এবং ইউপি সদস্যের উদ্যোগে বিয়ে দেয়। এ সময়ের বেশ কিছু ভিডিও মুঠোফোনে ধারণ করে সে বন্ধুই ছেলেটির পরিবারের কাছে পাঠায়।
ঘটনার পর শনিবার রাতে ছেলের মা বাদী হয়ে মেয়ের বাবা, মা ও ইউপি সদস্য শরফ উদ্দিনসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১২ জনকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ও বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনে জুড়ী থানায় মামলা করেন।
জুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুরশেদুল আলম ভূঁইয়া বলেন, “ছেলেটির বন্ধুর মুঠোফোনে ধারণ করা ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা গেছে কিশোরটিকে জোর করে ধরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এবং পরে বাল্যবিবাহ দেওয়া হয়েছে। তাদের আদালতে পাঠানো হবে। আদালত জবানবন্দি গ্রহণের পর পরবর্তী নির্দেশনা দেবেন।”
অভিযুক্ত ইউপি সদস্য শরফ উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। পুলিশ জানায়, আসামিরা পলাতক রয়েছে, তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
