জুড়ীতে অসময়ে মালচিং পদ্ধতিতে কাঁচা মরিচ চাষে সফল কৃষক মতিন
নিজস্ব প্রতিবেদক জুড়ী:
মৌলভীবাজারের জুড়ীতে অসময়ে মালচিং পদ্ধতিতে কাঁচা মরিচ চাষ করে সাড়া ফেলেছেন কৃষক আব্দুল মতিন। উপজেলার অধিকাংশ কৃষি জমি বন্যার পানিতে তলিয়ে ফসল নষ্ট হলেও তিনি বাড়ির পাশের উঁচু জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে মরিচ চাষ করে পেয়েছেন ব্যাপক ফলন। তার সফলতা দেখতে প্রতিদিনই উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে নতুন উদ্যোক্তারা ভিড় করছেন।
জায়ফরনগর ইউনিয়নের জাঙ্গীরাই গ্রামের এই কৃষক তিন বছর আগে উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শ নিয়ে অল্প পরিসরে মরিচ চাষ শুরু করেন। এবছর দুই বিঘা জমিতে অসময়ে মরিচ চাষে ৮০ হাজার টাকা খরচ হলেও ইতোমধ্যে ৩ ধাপে ৮০০ কেজি মরিচ ১ লাখ ৭০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আরও ৮০০ কেজি মরিচ বিক্রির আশা করছেন তিনি।
হাইব্রিড ‘বিজলী টুয়েন্টি টুয়েন্টি’ জাতের মরিচ চাষে মাত্র দুই মাসেই গাছে ফল ধরেছে। এখন মরিচের মৌসুম না হওয়ায় বাজারে প্রতি কেজি মরিচ বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২২০ টাকায়। প্রতিটি গাছ থেকে পাওয়া যাচ্ছে ১ থেকে ২ কেজি মরিচ।
কৃষক আব্দুল মতিন বলেন, “কৃষি অফিসের সহায়তা পেলে বিভাগীয় পর্যায়ে সেরা কৃষক হওয়ার আশা রাখি।”
স্থানীয় কৃষি শ্রমিক ও আগ্রহী কৃষকরা জানিয়েছেন, মালচিং পদ্ধতিতে মরিচ চাষে খরচ কিছুটা বেশি হলেও ফলন ও লাভ দুটোই ভালো।
জুড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল আলম খান বলেন, “কৃষক মতিনের সফলতা দেখে অনেক কৃষকই এই পদ্ধতিতে মরিচ চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।”
অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর) আলমগীর আজাদ জানান, “সঠিক পরিকল্পনা, প্রযুক্তি ও কৃষি অফিসের সহায়তা পেলে অসময়ে মরিচ চাষে ভালো লাভ পাওয়া সম্ভব।”
পে-অফ: কৃষকদের প্রবল আগ্রহ, কঠোর পরিশ্রম, কৃষি অফিসের সহায়তা, প্রযুক্তি ও পরিকল্পনার সঠিক প্রয়োগ—এসবের সমন্বয়ে অসময়ে মরিচ চাষ করে লাভবান হওয়ার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন জুড়ীর কৃষক আব্দুল মতিন।
