জুড়ীতে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার মামলায় ইউপি চেয়ারম্যান শেলু গ্রেফতার
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুলাউড়া (সার্কেল) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ আজমল হোসেন। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) বিকেলে ফুলতলা ইউনিয়ন পরিষদের নিজ কার্যালয় থেকে আব্দুল আলীম শেলুকে গ্রেফতার করা হয় এবং পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
তবে শেলুর গ্রেফতারের প্রতিবাদ জানিয়েছেন মামলার বাদী মো. তারেক মিয়া। তিনি থানায় উপস্থিত হয়ে জানান, “চেয়ারম্যান শেলু এই ঘটনায় জড়িত নন। বরং হামলার মূল হোতারা এখনও ধরা ছোঁয়ার বাইরে। অথচ নির্দোষদের ফাঁসানো হচ্ছে। পুলিশ এই মামলাকে বানিজ্যের হাতিয়ার বানিয়েছে।”
তারেক মিয়াসহ অন্যান্যরা চেয়ারম্যান শেলুর বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান। তবে পুলিশ কর্মকর্তা অনড় অবস্থান নেওয়ায় থানায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে শেলুর আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসী থানায় জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন। মৌলভীবাজারে নেওয়ার পথে কয়েকজন গাড়ির সামনে শুয়ে পড়েন বলেও জানা যায়।
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে গত ১৬ জুলাই, ৩ ও ৪ আগস্ট জুড়ী শহরে আন্দোলন কর্মসূচি পালন করে শিক্ষার্থীরা। ৩ আগস্ট এক শান্তিপূর্ণ মিছিলে বাধা দেয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়ে তাদের মারধর করা হয়।
পাল্টা কর্মসূচি হিসেবে ৪ আগস্ট আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ মিছিল করেন।
এই ঘটনার পর গত ২৬ আগস্ট ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়কারী তারেক মিয়া বাদী হয়ে ৬৩ জন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীর নামে মামলা দায়ের করেন। এ মামলার অজ্ঞাত আসামিদের তালিকায় ছিলেন চেয়ারম্যান আব্দুল আলীম শেলু।
