সাদা পাথরের সকল পাথর দিনের আলোয় লুট! পর্যটন এলাকা ধ্বংসের পথে
আমাদের সিলেটের সীমান্তবর্তী পর্যটন এলাকা সাদা পাথর একসময় ছিল পাহাড়ি ঝরনা, স্বচ্ছ পানি ও ঝকঝকে সাদা পাথরের অনিন্দ্যসুন্দর মিলনস্থল। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকরা আসতেন এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে। কিন্তু বর্তমানে সেই দৃশ্য বদলে গিয়ে দাঁড়িয়েছে এক ভয়াবহ চিত্রে—দুপুরের আলোয় প্রকাশ্যে চলছে পাথর লুট, আর এর ফলে ধ্বংসের মুখে পড়েছে এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের ভান্ডার।
গত ৫ আগস্ট ২০২৪ সাল পর্যন্তও নদীর তলদেশে ছিল অসংখ্য ঝলমলে সাদা পাথর, যা সূর্যের আলোয় রূপালী ঝিলিক দিতো। আজ সেগুলোর বেশিরভাগই উধাও। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত কয়েকটি সংঘবদ্ধ চক্র নৌকা, ট্রাক্টর ও ভ্যানগাড়ি দিয়ে নদী ও পাড় থেকে পাথর তুলছে, যা পরে বিক্রি হচ্ছে নির্মাণ কাজে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ—
“দিনের বেলায়ই প্রকাশ্যে পাথর তোলা হচ্ছে। প্রশাসনের কোনো স্থায়ী নজরদারি নেই। মাঝে মাঝে অভিযান চালালেও কিছুদিনের মধ্যেই আবার শুরু হয় লুটপাট।”
পাথর উত্তোলনের ফলে এলাকার প্রাকৃতিক ভারসাম্য মারাত্মকভাবে নষ্ট হচ্ছে। নদীর তলদেশ অস্বাভাবিক গভীর হয়ে যাচ্ছে, পানির স্বচ্ছতা হারিয়ে যাচ্ছে এবং আশেপাশের পরিবেশে ভাঙন শুরু হয়েছে।
এতে পর্যটকের সংখ্যা দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে, ফলে স্থানীয় অর্থনীতি বিপর্যস্ত। হোটেল, রেস্টুরেন্ট, নৌকা চালক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা আয় হারিয়ে দিশেহারা।
এক নৌকা চালকের আক্ষেপ—
“আগে প্রতিদিন পর্যটক নিয়ে নদীতে ঘুরতাম। এখন পাথর নেই, সৌন্দর্য নেই—মানুষও আসে না।”
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, পাথর উত্তোলন বন্ধ না হলে কয়েক বছরের মধ্যেই এ এলাকা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাবে। তারা সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন, অবিলম্বে ও স্থায়ীভাবে পাথর লুট বন্ধ করে এ পর্যটন কেন্দ্রের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য পুনরুদ্ধারের ব্যবস্থা নিতে হবে।
একসময় সিলেটের গর্ব ছিল সাদা পাথর—দেশ-বিদেশের পর্যটকদের জন্য অনন্য এক আকর্ষণ। কিন্তু এখন এটি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। দ্রুত সঠিক পদক্ষেপ না নিলে আগামী প্রজন্ম হয়তো শুধু ছবিতেই দেখতে পাবে এই হারানো সৌন্দর্য।
