জুড়ীর লাঠিটিলার বনে ‘বন্য আঙুর’: সম্ভাবনা নাকি বিপদ?

 



জুড়ীর লাঠিটিলার বনে ‘বন্য আঙুর’: সম্ভাবনা নাকি বিপদ?

মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী উপজেলার লাঠিটিলা সংরক্ষিত বনের পাহাড়ি টিলা বেষ্টিত ছায়াঘেরা বনাঞ্চল ও অনাবাদি জমিতে সম্প্রতি এক ধরনের বুনো লতার ফলন লক্ষ্য করা গেছে। গুচ্ছাকারে ধরে থাকা এই ফলের গঠন অনেকটা আঙুরের মতো হওয়ায় স্থানীয়রা একে ‘বন্য আঙুর’ নামে চিনে থাকেন। গাছে ঝুলে থাকা এই ফল সাধারণত গাঢ় সবুজ রঙের এবং দেখতে বেশ আকর্ষণীয়।

মূলত বর্ষা ও শরৎকালে এই লতায় ফুল ও ফল ধরে। স্থানীয়দের কাছে এই ফল নতুন কিছু নয়—বহু বছর ধরেই তারা এটি দেখে আসছেন। ছোটবেলায় অনেকে মজা করে এটি খেয়েও ফেলেছেন। স্থানীয় বাসিন্দা ফারুক মিয়া বলেন, ‘আমরা ছোটবেলা থেকেই ঝোপঝাড়ের মাঝে এই ফল দেখে আসছি। মজা করে মাঝে মাঝে খেয়েছি, স্বাদ হালকা টক-মিষ্টি ধরনের। তবে কখনো পাকা অবস্থায় খাইনি। এখন আর কেউ তেমন খায় না, অনেকে এটিকে বিষাক্ত মনে করে ভয় পায়।’

এ নিয়ে জুড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদুল আলম খান বলেন, ‘স্থানীয়ভাবে একে ‘বন্য আঙুর’ বলা হলেও এর সঠিক বৈজ্ঞানিক পরিচয়, পুষ্টিগুণ বা খাওয়ার উপযোগিতা সম্পর্কে এখনো নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। অনেক বুনো ফল দেখতে আকর্ষণীয় হলেও বিষাক্ত হতে পারে। বিষয়টি আমরা গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করছি। প্রয়োজনে কৃষি বিভাগ ও বন বিভাগের যৌথ উদ্যোগে পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।’

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাকৃতিকভাবে জন্ম নেওয়া এমন লতা ও ফল যদি নিরাপদ ও চাষযোগ্য হিসেবে প্রমাণিত হয়, তাহলে তা বিকল্প ফল হিসেবে কৃষিক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা যোগ করতে পারে। পাশাপাশি এটি স্থানীয় পর্যটনের জন্যও হতে পারে নতুন এক আকর্ষণ। স্থানীয়দের বিশ্বাস, গবেষণা ও সচেতনতা বাড়ালে এমন অনেক প্রাকৃতিক সম্পদ নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে।

সূত্র: ষাটমাকন্ঠ



Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url