সিলেটে প্রিপেইড মিটারে বিদ্যুৎ বিভ্রাট: চরম দুর্ভোগে কয়েক হাজার গ্রাহক, সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে

 



সিলেটে প্রিপেইড মিটারে বিদ্যুৎ বিভ্রাট: চরম দুর্ভোগে কয়েক হাজার গ্রাহক, সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট:
বৃষ্টিহীন এই আষাঢ়ের ভ্যাপসা গরমে যখন জনজীবন অতিষ্ঠ, তখন বিদ্যুৎহীন অবস্থায় এক ভয়াবহ দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছেন সিলেট শহরের উপশহর ও আশপাশ এলাকার কয়েক হাজার বাসিন্দা। রবিবার (১৩ জুলাই) রাত থেকে প্রিপেইড মিটার ব্যবহারকারীরা বিদ্যুৎ না থাকায় রাত পার করেছেন চরম দুর্বিষহ অবস্থায়।

জানা যায়, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-২ এর আওতাধীন এইসব এলাকায় ১৪ সিরিয়ালের প্রিপেইড মিটার ব্যবহারকারীরা রবিবার রাত থেকে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় আছেন। পূর্বে এই মিটারগুলো পরিবর্তনের জন্য কর্তৃপক্ষ একাধিকবার গ্রাহকদের তাগাদা দিলেও নানা কারণে বেশিরভাগই তা করেননি। সম্প্রতি সফটওয়্যার ও সার্ভার আপডেটজনিত কারিগরি জটিলতায় মিটারে নতুন ইউনিট রিচার্জ করতে না পেরে বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছেন তারা।

সোমবার সকালে ভুক্তভোগী কয়েক হাজার গ্রাহক ক্ষোভ নিয়ে উপশহরস্থ পিডিবির কার্যালয়ে জড়ো হন। কিন্তু অফিসে গিয়ে সঠিক কোনো ব্যাখ্যা পাননি তারা। কেউ বলেন সফটওয়্যার নষ্ট, কেউ বলেন সার্ভারে সমস্যা, কেউ বলেন নতুন মিটার নিতে হবে—এমন বিভ্রান্তিকর বক্তব্যে জনতা আরও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।

একপর্যায়ে উত্তেজনা বাড়তে থাকলে নির্বাহী প্রকৌশলীসহ সব কর্মকর্তা সুকৌশলে অফিস ত্যাগ করেন। এতে জনতার মাঝে আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে ভাঙচুরের আশঙ্কা প্রকাশ করেন। পরে সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এক ক্ষুব্ধ প্রবাসী বৃদ্ধা বলেন, ‘এই ভ্যাপসা গরমে টাকা দিয়েও কেন ইউনিট নিতে পারছি না? এটা কেমন ব্যবস্থা?’
অন্য এক গ্রাহক জানান, ‘বয়স্ক, অসুস্থ, শিশু ও পরীক্ষার্থীদের যে কী অবস্থা, সেটা বলার মতো না। অফিসে কেউ নেই, কোথায় যাবো, কার কাছে যাবো?’

বিষয়টি জানতে যোগাযোগ করা হলে পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলী শামছ-ই-আরেফিন-এর মোবাইল ফোন বারবার ব্যস্ত পাওয়া যায়।
পরে বিদ্যুৎ বিভাগ সিলেটের সহকারী প্রকৌশলী মো. জারজিসুর রহমান রনি জানান, ‘সার্ভারে কিছু সমস্যা ছিল। আজকের (সোমবার) মধ্যেই সমস্যার সমাধান হবে।’

এদিকে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে পিডিবির কার্যালয় থেকে কয়েকজন গ্রাহক জানিয়েছেন, সেনাবাহিনী এসে তদারকি শুরু করেছে এবং পরিস্থিতি আপাতত শান্ত রয়েছে।



Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url