কুলাউড়ায় ফুটপাত ও সড়ক দখল করে চলছে অবৈধ রমরমা বাণিজ্য, যানজটে অতিষ্ঠ পৌরবাসী
স্থানীয়রা জানান, শহরে ইতোমধ্যে পৌরসভার নির্ধারিত তিনটি বাজার রয়েছে—দক্ষিণ বাজার (সকাল), উত্তর বাজার (বিকাল) ও সাপ্তাহিক হাট বাজার (স্কুল চৌমুহনা)। এসব বাজার থেকে সরকার নিয়মিত রাজস্ব পায়। অথচ থানা এলাকাজুড়ে যে অবৈধ বাজার গড়ে উঠেছে, তা কোনো নিয়মনীতি ছাড়াই চলছে, প্রশাসনের অভিযান চালানোর পরও কার্যকর স্থায়ী সমাধান দেখা যাচ্ছে না।
পৌরবাসীদের অভিযোগ, বারবার উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলেও কিছুদিনের মধ্যেই দখলদার হকাররা পুনরায় ব্যবসা শুরু করে। এতে করে একদিকে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে সড়কজুড়ে যানজট ও বিশৃঙ্খলা চরমে পৌঁছেছে।
কুলাউড়া ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক এম আতিকুর রহমান আকুই বলেন, "দুঃখজনক হলেও সত্য, কুলাউড়ার প্রধান সড়কের দুই পাশে ফুটপাত দখল করে অবৈধভাবে ব্যবসা চালানো হচ্ছে। অথচ আমাদের তিনটি অনুমোদিত বাজার রয়েছে, তারা চাইলে সেখানেই বৈধভাবে ব্যবসা করতে পারতেন। বৈধ ব্যবসায়ীরা সরকারকে রাজস্ব প্রদান করেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।"
তিনি আরও জানান, অবৈধ দখলদারদের বিষয়ে ব্যবসায়ী সমিতি নিয়মিত আইন-শৃঙ্খলা সভা ও প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে অভিযোগ করে আসছে।
কুলাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ ওমর ফারুক বলেন, “ফুটপাত দখল করে যারা অবৈধভাবে হকারি করছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” ‘থানা বাজার’ নাম সম্পর্কে তিনি বলেন, “এই নামে আমি প্রথম শুনলাম। তবে উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মহিউদ্দিন বলেন, “ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করতে উপজেলা প্রশাসন একাধিকবার অভিযান পরিচালনা করেছে। অভিযানের সময় যেখানে-সেখানে সিএনজি ও মোটরসাইকেল পার্কিং করায় জরিমানাও করা হয়েছে।” তিনি জানান, থানা বাজার নামটি তারও অজানা, তবে ভবিষ্যতে নিয়মিত মনিটরিংয়ের জন্য পুলিশকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, দ্রুত কার্যকর ও ধারাবাহিক উদ্যোগ না নেওয়া হলে কুলাউড়া শহরের যানজট পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। সেইসাথে বৈধ ও অবৈধ ব্যবসার পার্থক্য দূর হয়ে যাবে, যা শহরের অর্থনৈতিক শৃঙ্খলার জন্য হুমকি।
