স্ত্রীর মৃত্যুর খবরে স্বামীরও মৃত্যু — এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া

 

কুলাউড়ার রাউৎগাঁওয়ে হৃদয়বিদারক ঘটনা

স্ত্রীর মৃত্যুর খবরে স্বামীরও মৃত্যু — এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া

নিজস্ব প্রতিবেদক
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার রাউৎগাঁও ইউনিয়নে ঘটেছে এক বিরল ও হৃদয়বিদারক ঘটনা। স্ত্রী রিনা বেগমের মৃত্যুর খবর শুনে স্বামী ওয়ারিছ মিয়া অল্প সময়ের ব্যবধানে মারা যান। এই ঘটনায় সমগ্র এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৮নং রাউৎগাঁও ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের পশ্চিম রাউৎগাঁও এলাকার বাসিন্দা জনাব ওয়ারিছ মিয়া ও তাঁর স্ত্রী রিনা বেগম মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ইহলোক ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, রিনা বেগম কিছুদিন আগে ভানুগাছ এলাকায় মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে যান। সেখানে বার্ধক্যজনিত কারণে অসুস্থ হয়ে সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে ইন্তেকাল করেন।

এদিকে মঙ্গলবার ভোরে ফজরের নামাজের ওযু শেষে ঘরে ফেরার পথে স্ত্রী রিনা বেগমের মৃত্যুসংবাদ শুনেই ওয়ারিছ মিয়া হৃদয়বিদারক শোক সইতে না পেরে তাৎক্ষণিকভাবে মৃত্যুবরণ করেন। স্ত্রীর মৃত্যু শোকই যেন থামিয়ে দেয় এই বৃদ্ধ ধর্মপ্রাণ মানুষটির জীবনচাকা।

ওয়ারিছ মিয়া ছিলেন একজন ধর্মভীরু ও সজ্জন ব্যক্তি। তিনি রাউৎগাঁও হাফিজিয়া মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটির সদস্য এবং রাউৎগাঁও জামে মসজিদ কমিটির সম্মানিত সদস্য হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করেছেন। সমাজে তিনি ছিলেন একজন শ্রদ্ধাভাজন, নম্র ও পরোপকারী মানুষ।

দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনে একে অপরের ছায়াসঙ্গী এই দম্পতির শেষ ইচ্ছার প্রতিফলন হিসেবে পাশাপাশি কবর খোঁড়া হয়েছে রাউৎগাঁও ছোট মোকাম প্রাঙ্গণে। মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) বিকাল ৩টা ৩০ মিনিটে রাউৎগাঁও বড় মোকামে তাঁদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

এই বিরল ও শোকাবহ ঘটনাটি এলাকায় আবেগের জোয়ার বইয়ে দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। পরিবার, প্রতিবেশী ও আত্মীয়-স্বজনদের চোখে এখন শুধু অশ্রু আর স্মৃতির ভার।



Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url