কুলাউড়ায় স্কুলছাত্রী আনজুম হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল
কুলাউড়ায় স্কুলছাত্রী আনজুম হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল।
নিজস্ব প্রতিবেদক:কুলাউড়া
রবিবার (১৫ জুন) বিকেলে শ্রীপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে ‘সচেতন যুব সমাজ’-এর ব্যানারে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বদরুল হোসেন খান, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খালেদ লাকী, ইউসুফ গণি আদর্শ কলেজের অধ্যক্ষ এ এন এম আলম, উপজেলা বিএনপি নেতা সারওয়ার আলম বেলাল, ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মো. ছয়ফুল ইসলাম, ২ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য লুৎফুর রহমান, সমাজসেবক মাহমুদ খান আক্তার, ব্যবসায়ী বাচ্চু মিয়া ও সমাজকর্মী শাহিন আহমদ প্রমুখ। মানববন্ধন সঞ্চালনা করেন সমাজকর্মী আব্দুস সামাদ সুজেল।
বক্তারা স্লোগানে স্লোগানে হত্যার সঠিক ও দ্রুত বিচারের দাবি জানান। এ সময় তারা বলেন, ‘জ্বালো রে জ্বালো, আগুন জ্বালো’, ‘আনজুমের হত্যাকারীর বিচার চাই’, ‘দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেফতার করো’—এই দাবিতে পুরো মানববন্ধন স্থল মুখর হয়ে ওঠে।
মানববন্ধন শেষে শ্রীপুর বাজার এলাকায় এক বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, "আমরা আজ এক গভীর শোকের ঘটনায় একত্র হয়েছি। আমাদের এলাকার কিশোরী নাসিফা জান্নাত আনজুমকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। এই জঘন্য অপরাধের দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।”
নিহত শিক্ষার্থীর পিতা আব্দুল খালিক বলেন, “আমার মেয়ে খুবই মেধাবী ছিল। তাকে অপহরণ করে খুন করে লাশ বাড়ির পাশের খালে ফেলে রাখা হয়েছে। আমি দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।”
ঘটনার পেছনের গল্প:
গত ১৪ জুন (শনিবার) বিকেলে আনজুমের বাড়ির পাশের একটি খাল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর আগে ১২ জুন বৃহস্পতিবার সকালে সে স্থানীয় একটি কোচিং সেন্টারে প্রাইভেট পড়তে গিয়ে নিখোঁজ হয়।
পরিবারের সদস্যরা অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তার সন্ধান না পাওয়ায় ১৩ জুন কুলাউড়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন তার মা নাসিমা আক্তার লাকি। আনজুম কুলাউড়ার ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়নের শেরপুর গ্রামের বাসিন্দা ও স্থানীয় শ্রীপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৪ জুন বিকেল ৫টার দিকে স্থানীয়রা বাড়ির পাশের খালে ভাসমান অবস্থায় একটি মরদেহ দেখতে পেয়ে থানায় খবর দেন। পরে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে।
এ বিষয়ে কুলাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. গোলাম আপছার বলেন, “প্রাথমিকভাবে এটি একটি হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। মরদেহ অর্ধগলিত ছিল এবং শরীরে পানির সংস্পর্শে চামড়া আলগা হয়ে গিয়েছিল। তবে আঘাতের চিহ্ন কিংবা যৌন নির্যাতনের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।”
তিনি আরও জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নিহত আনজুমের মা নাসিমা আক্তার লাকি বাদী হয়ে কুলাউড়া থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা (মামলা নং: ১৩, তারিখ: ১৫/০৬/২৫) দায়ের করেছেন।
পুলিশের তদন্ত:
পুলিশ প্রেমঘটিত সম্পর্ক কিংবা পারিবারিক বিরোধ—এই দুই সম্ভাবনার দিকটি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) নোবেল চাকমা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজমল হোসেন এবং মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই হাবিবুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
এলাকাবাসী ও অভিভাবক মহল দ্রুত সময়ের মধ্যে এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
