কুলাউড়ায় স্কুলছাত্রী নাসিফা হত্যার রহস্য উদঘাটন: ঘাতক গ্রেফতার, আলামত উদ্ধার


কুলাউড়ায় স্কুলছাত্রী নাসিফা হত্যার রহস্য উদঘাটন: ঘাতক গ্রেফতার, আলামত উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক
মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় দশম শ্রেণির মেধাবী ছাত্রী নাসিফা জান্নাত আনজুম (১৫) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। ভিকটিমের প্রতিবেশী মো. জুনেল মিয়া (৩০)–কে গ্রেফতার করা হয়েছে। পাশাপাশি তার দেখানো মতে ও পুলিশের তল্লাশির মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।

নিখোঁজের দুই দিন পর মিলল মরদেহ

গত ১২ জুন সকাল ৭টায় পাশের সিংগুর গ্রামে প্রাইভেট পড়তে গিয়ে নিখোঁজ হয় নাসিফা। এ ঘটনায় কুলাউড়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। নিখোঁজের দুই দিন পর ১৪ জুন বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটে বাড়ির পাশের ছড়ার পাড়ে দুর্গন্ধ পেয়ে নাসিফার ভাই ও মামা খোঁজ করতে গিয়ে একটি অধগলিত মরদেহ শনাক্ত করেন। পুলিশকে খবর দিলে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

পরবর্তীতে নিহতের পরিবারের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে থানায় একটি হত্যা মামলা রুজু করা হয়।

পুলিশি তদন্তে রহস্য উদঘাটন

ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) নোবেল চাকমা, কুলাউড়া সার্কেলের (অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আজমল হোসেন, কুলাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ গোলাম আপসার এবং পুলিশ পরিদর্শক সুদীপ্ত ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করা হয়।

এই টিম স্থানীয় এলাকাজুড়ে ব্যাপক তল্লাশি চালিয়ে ঘটনাস্থলের আশপাশ থেকে ভিকটিমের স্কুল ব্যাগ, বই ও একটি জুতা উদ্ধার করে। একই সঙ্গে সন্দেহভাজন হিসেবে এলাকার বাসিন্দা মো. জুনেল মিয়াকে আটক করা হয়।

ঘাতকের স্বীকারোক্তি

পুলিশ জানায়, আটক জুনেল মিয়ার মোবাইল চেক করে পর্নোগ্রাফি ব্রাউজিংয়ের তথ্য পায় তদন্তকারীরা। এতে তার প্রতি সন্দেহ আরও গভীর হয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে রাত ১২টার দিকে পুলিশ সুপারের উপস্থিতিতে সে হত্যার দায় স্বীকার করে।

জুনেল জানায়, ভিকটিম প্রায় প্রতিদিন তার বাড়ির সামনের রাস্তা দিয়ে স্কুল ও প্রাইভেটে যেত। সে নাসিফার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ার চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হয়। ১২ জুন সকাল আনুমানিক ১০টা ৩০ মিনিটে প্রাইভেট পড়ে ফেরার পথে নাসিফাকে জোর করে থামিয়ে কথা বলতে চায়। ভিকটিম এড়িয়ে যেতে চাইলে সে পিছন থেকে জাপটে ধরে এবং গলায় চাপ দেয়। এতে ভিকটিম অচেতন হয়ে পড়ে। এরপর তাকে কিরিম শাহ মাজারসংলগ্ন জঙ্গলের ভেতর একটি ঝোপে ফেলে দেয়।

পরবর্তীতে ব্যাগ ও জুতা ঝোপে এবং পরিহিত বোরকা পার্শ্ববর্তী পারিবারিক কবরস্থানের সীমানার ভেতরে ফেলে দেয়।

আলামত উদ্ধার

রবিবার দিবাগত রাতে পুলিশের অভিযানে স্থানীয় জনতা ও গণমাধ্যম কর্মীদের উপস্থিতিতে আসামির দেখানো জায়গা থেকে ভিকটিমের বোরকা উদ্ধার করা হয়। এর আগে ঘটনাস্থলের পাশের ঝোপ থেকে উদ্ধার করা হয় ব্যাগ, বই ও একটি জুতা।

পুলিশ জানায়,

“আসহানক ঘটনাটির দ্রুত রহস্য উদঘাটন ও ঘাতক শনাক্ত করতে আমরা ৬টি বিশেষ টিম গঠন করে স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদ করি। আলামত ও প্রযুক্তির সহায়তায় আমরা জুনেল মিয়াকে শনাক্ত করি এবং পরে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী হত্যার প্রক্রিয়া নিশ্চিত হই।”


এই নির্মম হত্যাকাণ্ড এলাকাবাসীসহ সমগ্র কুলাউড়া জুড়ে চরম ক্ষোভ ও শোকের ছায়া ফেলেছে। ভিকটিমের পরিবার ঘাতকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছে।



Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url