দিনমজুর সালাউদ্দিন হত্যা: দুই মাসেও রহস্য উদ্ঘাটন হয়নি, বড়লেখায় মানববন্ধন


দিনমজুর সালাউদ্দিন হত্যা: দুই মাসেও রহস্য উদ্ঘাটন হয়নি, বড়লেখায় মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক, বড়লেখা

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় দিনমজুর সালাউদ্দিন (৩৫) হত্যাকাণ্ডের দুই মাস পেরিয়ে গেলেও এখনও হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রকৃত কোনো আসামিকেও এখনো গ্রেপ্তার করা হয়নি। ফলে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী।

রোববার (২২ জুন) দুপুরে বড়লেখা পৌরশহরে সালাউদ্দিন হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন তার স্বজনসহ স্থানীয় জনতা। পরে তারা বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন।

মানববন্ধনটি পরিচালনা করেন নিহত সালাউদ্দিনের ভাগ্নে ইকবাল জাফর। সমাবেশে বক্তব্য দেন স্থানীয় ইউপি সদস্য ছৈয়দ আলী, আব্দুল হালিম, ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি মুজিবুর রহমান, পৌর জামায়াতের সেক্রেটারি আব্দুস সামাদ, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আব্দুল কাদির পলাশ, নিহতের বাবা কমর উদ্দিন, চাচা পারভেজ আসুক, ছোটভাই আমির উদ্দিন ও ভগ্নিপতি হাফিজ বেলাল আহমদ প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, ১৮ এপ্রিল রাত থেকে ১৯ এপ্রিল বিকেলের মধ্যে কোনো এক সময় সালাউদ্দিনকে নির্মমভাবে খুন করে রাতখাল নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। স্থানীয় লোকজন নদীতে ভাসমান অবস্থায় তার মরদেহ দেখে স্বজনদের খবর দেন। এরপর নিহতের ভাই আমির উদ্দিন অজ্ঞাতনামা আসামি করে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আব্দুর রউফ এই ঘটনায় চারজনকে আটক করেন। ২৪ এপ্রিল আফজাল হোসেনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করে রিমান্ডের আবেদন করা হয়। এদিকে নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি পাওয়া যায় আফজালের কাছ থেকে। সিএনজি চালক মামুন হোসেনকে ফোন দিয়ে নিশ্চিত হওয়া যায় এটি সালাউদ্দিনের ফোন।

স্বজনদের দাবি, মামুন প্রতিদিন সালাউদ্দিনকে সঙ্গে নিয়ে গ্যাস আনতে যেতেন বিয়ানীবাজার। কিন্তু ঘটনার দিন কেন তিনি তাকে নেননি? এছাড়া ঘটনার রাতে যে বাড়িতে সালাউদ্দিন খাবার খেয়েছিলেন, সেই ব্যক্তিকেও কেন তদন্তে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি—এই প্রশ্নও তুলেছেন তারা।

এ বিষয়ে বড়লেখা থানার তদন্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান বলেন, “নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে তদন্ত, ক্লু উদ্ঘাটন এবং প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। এই প্রেক্ষিতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে পরিবর্তন করা হতে পারে।”



Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url