নতুন বাংলাদেশ গড়তে চাই শিক্ষায় হাত দিয়ে”— বড়লেখায় ডা. শফিকুর রহমান
নতুন বাংলাদেশ গড়তে চাই শিক্ষায় হাত দিয়ে”— বড়লেখায় ডা. শফিকুর রহমান
নিজস্ব প্রতিবেদক, বড়লেখা:
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “নতুন বাংলাদেশ গড়তে হলে শিক্ষাকে সর্বাগ্রে গুরুত্ব দিতে হবে। শিক্ষা এমন একটি হাত তৈরি করবে, যা হবে জাতি গঠনের কারিগর।”
সোমবার (৯ জুন) মৌলভীবাজারের বড়লেখায় উপজেলা জামায়াত আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি বড়লেখা ইসলামী ব্যাংক শাখার সামনে অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা জামায়াতের আমীর এমাদুল ইসলাম এবং সঞ্চালনা করেন উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল বাছিত। শুরুতেই কোরআন তেলাওয়াত করেন হাফিজ রেদওয়ান আহমদ এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নেয় বড়লেখা সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংসদের শিল্পীবৃন্দ।
ডা. শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে বলেন, “সাড়ে ১৫ বছর এই দেশে মানুষের কথা বলার স্বাধীনতা ছিল না। মানুষ কাঁদতেও পারে নাই, হাসতেও পারে নাই। কণ্ঠরোধ করে একটি নির্বাক জাতি তৈরি করা হয়েছিল।”
তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বারবার ভোটারবিহীন নির্বাচন হয়েছে। প্রথম নির্বাচনে ১৫৪ জন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। দ্বিতীয় নির্বাচন হয়েছে ‘নিশীরাত’ নামে কুখ্যাত। তৃতীয় নির্বাচনে ছিল কেবল ‘আমি আর ডামি’। এসব নির্বাচন দেশের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে।”
নির্বাচনী প্রসঙ্গ তুলে তিনি আরও বলেন, “যুবকদের নেতৃত্বে আমরা ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি। আগামীতেও ভোটের লড়াইয়ে তারাই নেতৃত্ব দেবে ইনশাআল্লাহ। দেশের প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, “যারা জীবন ও চাকরি বিপন্ন করে দেশের জন্য বিদেশে আন্দোলন করেছেন, তাদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া যাবে না।”
দেশের সামরিক বাহিনী প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর বলেন, “আমরা সেনাবাহিনীকে কোনো দলের নয়, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের রক্ষক হিসেবে দেখতে চাই। তারা আমাদের গর্ব।”
আন্দোলনে শহীদ হওয়া আবু সাঈদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “আবু সাঈদের মতো লক্ষ শহীদ আমাদের অহংকার, আমাদের সেনাপতি। তাদের ত্যাগ জাতিকে অনুপ্রাণিত করেছে। এই শহীদদের বীরের মর্যাদা দিতে হবে।”
তিনি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি গুরুত্বারোপ করে বলেন, “আমরা এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা চাই, যা মানুষের মাঝে নৈতিকতা ও দক্ষতা তৈরি করবে। এমন শিক্ষা চাই, যেখানে একজন শিক্ষার্থী পড়ালেখা শেষ করার আগেই কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা পাবে।”
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আইনজীবী এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, সিলেট মহানগর জামায়াতের আমীর ফখরুল ইসলাম, মৌলভীবাজার জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর আব্দুর রহমান, সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা আমিনুল ইসলাম, ছাত্রশিবির কেন্দ্রীয় নেতা শরীফ মাহমুদ প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
