যৌবন কালই ইবাদতের শ্রেষ্ঠ সময়


তরুণরাই আগামীর নেতৃত্ব, এখনই প্রয়োজন কুরআনমুখী জীবনের দিকে ফেরা

নিজস্ব প্রতিবেদক:

শৈশব, কৈশোর ও বার্ধক্যের মাঝের সময়টি—যৌবন—মানব জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান ধাপ। এই সময়টিই মানুষের জীবনের মোড় ঘোরাতে পারে—উত্থান ও পতনের কেন্দ্রবিন্দু এই সময়ের সাধনা, পরিশ্রম এবং সংযম-অসংযমের ওপর নির্ভর করে। যৌবনের সোনালি সময় যদি আল্লাহমুখী হয়ে ব্যবহার করা যায়, তবে বার্ধক্য হবে দুশ্চিন্তাহীন, শান্তিময়।

এক বিশিষ্ট মুফাস্সিরে কুরআন ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব তার বক্তব্যে বলেন, "যৌবনে পরিশ্রম না করলে এবং অসংযমে দিন কাটালে বার্ধক্য হয় দুর্বিষহ। তখন আফসোস আর অতীত স্মৃতি ভোগে মানুষকে।" তিনি এ প্রসঙ্গে বিশ্বকবি শেখ সাদির অমর গ্রন্থ গুলিস্তাঁ থেকে একটি বাস্তবধর্মী কাহিনির উল্লেখ করেন—যেখানে বার্ধক্যের কষ্টকর উপলব্ধি তুলে ধরা হয়েছে।

তিনি বলেন, “শেখ সাদি একবার দামেস্ক সফরে গিয়ে এক মরণাপন্ন বৃদ্ধের কথা শুনেছিলেন, যে দুঃখ করে বলছিল—‘যৌবনে আমি তৃপ্তির সীমায় গিয়ে খেয়েছি, ভেবেছিলাম এ সুখ চিরকাল থাকবে। অথচ আজ আমি নিঃস্ব, মৃত্যুর পথে।’”

বক্তব্যে তিনি আজকের সমাজে তরুণদের দিকভ্রষ্টতার জন্য দায়ী করেন অপসংস্কৃতি ও ধর্ম থেকে বিচ্ছিন্ন অবকাঠামোকে। “যেখানে ১৫০টিরও বেশি স্যাটেলাইট চ্যানেল অপসংস্কৃতি ছড়ায়, সেখানে ধর্মীয় চেতনায় উজ্জীবিত করার মতো চ্যানেল ১০টিও নেই। এ দিক থেকে দায়ীদের উদাসীনতাও কম দায়ী নয়,” বলেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, “আজকের তরুণরাই আগামীর রাষ্ট্র, সমাজ ও নেতৃত্ব গড়বে। তাই এই সময়টিতে তাদের কুরআনের আলোয় আলোকিত করা অত্যন্ত জরুরি।” তরুণদের দাওয়াতের আওতায় আনতে আলেম ও দায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “নিজ সন্তানদের দ্বীনের পথে আনতে না পারলে দাওয়াত পূর্ণতা পাবে না।”

পবিত্র কুরআনের ভাষা উদ্ধৃত করে তিনি বলেন,

“হে মুমিনগণ! তোমরা নিজেদের ও পরিবার-পরিজনকে সেই আগুন থেকে বাঁচাও, যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর।” (সূরা তাহরিম, আয়াত ৬)

শেষে তিনি আল্লাহর নিকট দোয়া করে বলেন, “আল্লাহ যেন আমাদের তাওফিক দেন, আমরা যেন তরুণদের নিয়ে পরিকল্পিতভাবে ভাবতে পারি এবং তাদের দ্বীনের পথে ফিরিয়ে আনতে পারি।”



Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url