আনজুম হত্যাকাণ্ডে শোকাহত জামায়াত আমির, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি
আনজুম হত্যাকাণ্ডে শোকাহত জামায়াত আমির, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি
বাড়ির আঙিনায় উপস্থিত শত শত মানুষের সামনে জামায়াত আমির বলেন, “আমার নিজ উপজেলায় এমন একটি মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের সংবাদ শুনে আমি অত্যন্ত ব্যথিত। আমি আজ এখানে এসেছি দুটি কারণে—মেয়েটির কবর জিয়ারত করতে এবং তার পরিবারের পাশে দাঁড়াতে।”
তিনি জানান, নিহত আনজুমের বাবার সাথে কথা বলে তিনি গভীরভাবে মর্মাহত হয়েছেন। “এই নির্মম হত্যাকাণ্ড আমাদের সমাজের অবক্ষয়ের প্রতিফলন,” বলেন তিনি।
স্থানীয় জনগণের স্লোগান—“আনজুম হত্যাকারীর ফাঁসি চাই”—উচ্চকণ্ঠে ধ্বনিত হলে জামায়াত আমির বলেন, “আমরা এ হত্যার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই। কোনো প্রভাবশালী মহল যদি ঘাতকের পক্ষে অবস্থান নেয়, তাহলে আমরা প্রতিরোধ গড়ে তুলব ইনশাআল্লাহ।”
তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে তিনি স্থানীয় প্রশাসনের সাথে কথা বলেছেন এবং হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, মামলার তদন্তে কোনো গড়িমসি কিংবা অন্যায় সহ্য করা হবে না। পুলিশের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “ন্যায়ের পক্ষে কলম চালাতে হবে। যিনি মামলার তদন্ত করবেন, তিনি যেন সৎভাবে দায়িত্ব পালন করেন।”
এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, জেলা আমির ইঞ্জিনিয়ার মো. শাহেদ আলী, নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুর রহমান, জেলা সেক্রেটারি মো. ইয়ামীর আলী, ছাত্রশিবির জেলা সভাপতি নিজাম উদ্দিন, কুলাউড়া উপজেলা সেক্রেটারি বেলাল আহমদ চৌধুরী প্রমুখ।
বাড়ির পাশে সবুজে ঘেরা দাউদপুর জামে মসজিদের পশ্চিমের কবরস্থানে আমীরে জামায়াতসহ নেতৃবৃন্দ কবর জিয়ারত ও মোনাজাত করেন। এরপর তিনি নিহত আনজুমের ঘরে গিয়ে তার বাবা আব্দুল খালিক, ছোট ভাই ও বোনকে সান্ত্বনা দেন। পর্দার আড়াল থেকে কান্নাজড়িত কণ্ঠে আনজুমের মা মেয়ের হত্যার বিচার দাবি করেন।
প্রসঙ্গত, গত ১২ জুন সকালে আনজুম (১৫) কোচিংয়ে যাওয়ার পথে নিখোঁজ হন। দুই দিন পর ১৪ জুন বিকেলে বাড়ির পাশে ছড়ার পাড় থেকে তার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তার মা নাছিমা আক্তার বাদী হয়ে কুলাউড়া থানায় হত্যা মামলা করেন।
পরে পুলিশ দাউদপুর গ্রামের জাহির মিয়ার ছেলে জুনেল মিয়াকে গ্রেপ্তার করে। তিনি পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার দায় স্বীকার করলেও আদালতে জবানবন্দি দেননি। এ নিয়ে নিহতের পরিবার, সহপাঠী ও এলাকাবাসীর মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।
এলাকাবাসী দাবি জানিয়েছেন, ঘাতক জুনেলকে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে।
