সিলেটের কুলসুমা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বস্তিতে, তবু হল না শেষ রক্ষা

 


সিলেটের কুলসুমা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বস্তিতে, তবু হল না শেষ রক্ষা


নিজস্ব প্রতিবেদক

সিলেট, ১৫ মে ২০২৫

গোলাপগঞ্জের কুলসুমা বেগম শেষ পর্যন্ত ধরা পড়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে। দুই ছেলেকে নিয়ে আত্মগোপন করেছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একটি বস্তিতে, তবে শেষরক্ষা হয়নি। শুক্রবার রাত ১১টার দিকে স্থানীয় একটি কলোনি থেকে মা ও দুই ছেলেকে আটক করে গোলাপগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ।

৩ মে গোলাপগঞ্জে ঘটে যাওয়া নির্মম হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত এই পরিবারটি। নিহত ফাহিম আহমদ (২৭) ছিলেন কুলসুমার আপন ভাইপো এবং স্থানীয় মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা আব্দুল আলীমের ছোট ছেলে। ৩০ এপ্রিল রাতের পর থেকে নিখোঁজ ছিলেন কুলসুমা ও তার দুই ছেলে — সাঈদ আহমদ ও মাহিদ আহমদ।

মামলার এজাহারে নিহতের বাবা উল্লেখ করেন, কুলসুমা ও মাহিদ মিলে ফাহিমকে ধরে রেখেছিলেন এবং সাঈদ উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে তাকে হত্যা করে। ১ মে সকাল ৮টার দিকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যু হয় ফাহিমের।

ঘটনার পর থেকেই তারা আত্মগোপন করেছিলেন। পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর চেষ্টা চললেও তাদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। শেষ পর্যন্ত গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গোলাপগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। অভিযানে নেতৃত্ব দেন গোলাপগঞ্জ থানার এসআই সাঈদ।

গ্রেপ্তারের পর তিনজনকেই আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এদিকে, ফাহিমের পরিবার সন্তোষ প্রকাশ করেছে এ ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের খবরে। পাশাপাশি তারা এ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে অন্য কোনো ইন্ধন রয়েছে কি না, সেটাও খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন।

এই হত্যাকাণ্ড ও পারিবারিক দ্বন্দ্বের পেছনে কী কারণ ছিল, তা উদঘাটনে কাজ করছে পুলিশ।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url