জুড়ী রেঞ্জ অফিসে জাতীয় পতাকা নেই, প্রশ্ন দেশপ্রেম নিয়ে

 


জুড়ী রেঞ্জ অফিসে জাতীয় পতাকা নেই, প্রশ্ন দেশপ্রেম নিয়ে

নিজস্ব প্রতিবেদক,জুড়ি 

সিলেট বন বিভাগের আওতাধীন জুড়ী রেঞ্জ কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনের দৃশ্য চোখে পড়ার মতো—সরকারি ভবনের সামনে স্থিরভাবে বাঁকা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি লৌহদণ্ড, কিন্তু তাতে উত্তোলন করা হয়নি জাতীয় পতাকা। দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতীক জাতীয় পতাকা যেখানে প্রতিদিন সম্মানের সঙ্গে ওড়ার কথা, সেখানে তা অনুপস্থিত।


বৃহস্পতিবার (৮ মে) সকাল ও দুপুরে গণমাধ্যমকর্মীদের সরেজমিন পর্যবেক্ষণে উঠে আসে এ চিত্র। শুধু একদিনের নয়—এ দৃশ্য দীর্ঘদিন ধরেই লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

অফিসের ভেতরে স্বাভাবিক কার্যক্রম চলছে। কর্মকর্তারা নথিতে স্বাক্ষর করছেন, বৈঠকে বসছেন, নানা প্রশাসনিক কাজ করছেন, অথচ জাতীয় পতাকা উত্তোলন নিয়ে যেন কারো কোনো উদ্বেগ নেই।

জাতীয় পতাকা উত্তোলন সংক্রান্ত নিয়মাবলিতে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। বাংলাদেশের পতাকা বিধিমালা ১৯৭২ (সংশোধিত ২০২৩) এর ৬ ধারার উপ-ধারা (১) অনুযায়ী, সরকারি ভবনসমূহে প্রতিদিন কর্মদিবসে জাতীয় পতাকা উত্তোলন বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে, ৭ ধারায় পতাকার যথাযথ সম্মান বজায় রাখার জন্য ২৬টি উপ-ধারা এবং ৮ ধারায় ৫টি উপ-ধারার মাধ্যমে সাধারণ নির্দেশাবলি নির্ধারণ করা হয়েছে।

স্থানীয় এক শিক্ষক রফিকুল ইসলাম বলেন, “আসলে জাতীয় পতাকার সঙ্গে দেশপ্রেমের বিষয়টি জড়িত। তাই সব সরকারি ভবনে যথাযথ মর্যাদায় জাতীয় পতাকার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা উচিত। যারা বা যে অফিসে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে না—তাদের দেশপ্রেম নিয়েই প্রশ্ন উঠতে পারে।”

জাতীয় পতাকা উত্তোলনে অবহেলা কেবল নিয়ম লঙ্ঘন নয়, বরং তা জাতির প্রতি দায়িত্বহীনতারও বহিঃপ্রকাশ। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সাধারণ মানুষ এখন জানতে চায়—জাতীয় পতাকার অবমাননায় দায়ীদের জবাবদিহি কোথায়?

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url