ভয়েস ক্লোনিং প্রযুক্তির ফাঁদে প্রতারণা, কীভাবে সাবধান থাকবেন আপনি
ভয়েস ক্লোনিং প্রযুক্তির ফাঁদে প্রতারণা, কীভাবে সাবধান থাকবেন আপনি
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) আজ কেবল প্রযুক্তির উন্নয়ন নয়, বরং প্রতারণার নতুন হাতিয়ার হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে। ভয়েস ক্লোনিং প্রযুক্তির মাধ্যমে নির্দিষ্ট ব্যক্তির কণ্ঠস্বর হুবহু নকল করে প্রতারকচক্র পরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগ করে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, মাত্র কয়েক সেকেন্ডের ভয়েস রেকর্ড ব্যবহার করেই পূর্ণাঙ্গ বাক্য তৈরি করে প্রতারণা সম্ভব হচ্ছে।
এই প্রসঙ্গে এআই ও সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান ফিউচার শিফট ল্যাবসের সহপ্রতিষ্ঠাতা সাগর বিষ্ণয় বলেন, “বর্তমানে কণ্ঠস্বর এত নিখুঁতভাবে ক্লোন করা যায় যে আবেগ, বিরতি, এমনকি ব্যক্তিগত বাচনভঙ্গিও হুবহু নকল করা সম্ভব হচ্ছে। এতে মানুষ সহজেই আবেগপ্রবণ হয়ে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন।”
কীভাবে বুঝবেন, এটি এআই দিয়ে বানানো কণ্ঠ?
সাইবার নিরাপত্তাবিশ্লেষকেরা কিছু উপায়ে প্রতারণা চেনার পরামর্শ দিয়েছেন—
১. কণ্ঠে কৃত্রিমতা খোঁজার চেষ্টা করুন:
এআই দিয়ে বানানো কণ্ঠ পুরোপুরি নিখুঁত হয় না। ফোনে কথা বলার সময় খেয়াল করুন, শব্দে অস্বাভাবিকতা আছে কি না। ব্যক্তিগত প্রশ্ন করুন—যার উত্তর শুধু প্রকৃত ব্যক্তি জানেন। সঠিক উত্তর না পেলে সাবধান হোন।
২. সংক্ষিপ্ত ও একপাক্ষিক কথোপকথন:
প্রতারকেরা সাধারণত সংক্ষিপ্ত ভয়েস ক্লিপ ব্যবহার করে। যদি বারবার প্রশ্ন করা সত্ত্বেও উত্তর না আসে, বুঝে নিন, এটি একটি ক্লোনড ভয়েস।
৩. রাত-বিরাতে ফোনকল এলে সতর্ক হোন:
গভীর রাত বা ভোরে অপরিচিত নম্বর থেকে পরিচিতদের কণ্ঠে ফোন এলে সন্দেহ করুন। কল কেটে নিজে সেই নম্বরে কল করে যাচাই করুন।
৪. ব্যক্তিগত তথ্য চাওয়ায় সতর্কতা:
এআই ক্লোনড ভয়েস ব্যবহার করে প্রতারকেরা শুধু অর্থ নয়, গোপন তথ্যও হাতিয়ে নিচ্ছে। ভয়েস নোট বা ভিডিও পাঠানোর অনুরোধ পেলে সতর্ক হোন। যদি বারবার একই অনুরোধ আসে, বুঝে নিন, এটি সন্দেহজনক।
উপসংহার:
এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। অপরিচিত নম্বর থেকে অস্বাভাবিক কোনো অনুরোধ এলে সঙ্গে সঙ্গে যাচাই করুন, এবং প্রয়োজনে সাইবার অপরাধ দমন বিভাগে অভিযোগ জানান।
নিউজ আপডেট ক্রনেট২৪/রাহিন
