সান্ডা প্রাণীটির নাম ও পরিচিতি:

 


 সান্ডা প্রাণীটির নাম ও পরিচিতি:

ছবিতে থাকা হলুদ রঙের প্রাণীটি দেখতে অনেকটা মনিটর লিজার্ড বা গুইসাপ জাতীয়। এটি মূলত Varanus গণভুক্ত একটি সরীসৃপ। তবে এর রঙ কিছুটা অস্বাভাবিকভাবে উজ্জ্বল হলুদ, যা প্রাকৃতিক গুইসাপের ক্ষেত্রে কম দেখা যায় — হতে পারে এটি কোনো বিশেষ প্রজাতির অথবা রঙিন আলোকচিত্র বা পালিত জীব।

বৈজ্ঞানিক নাম: Varanus bengalensis (যদি এটি ভারতীয় বা বাংলা গুইসাপ হয়)

স্থানীয় নাম: গুইসাপ, গোসাপ, মনিটর লিজার্ড

বাসস্থান ও বিস্তৃতি:

গুইসাপ সাধারণত এশিয়া ও আফ্রিকার নানা অঞ্চলে পাওয়া যায়।

বিশেষ করে:

বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া (থাইল্যান্ড, মিয়ানমার, ইন্দোনেশিয়া)

কিছু প্রজাতি আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়াতেও পাওয়া যায়

এরা সাধারণত:

নদী, খাল, বিলের,মানুষের বসতির কাছাকাছি এলাকা (যেখানে খাবার পাওয়া যায়)এ সব জায়গায় বাস করে।

চরিত্র ও খাদ্যাভ্যাস:

গুইসাপ মূলত মাংসাশী। এদের খাদ্যের তালিকায় থাকে:

ছোট স্তন্যপায়ী প্রাণী

মাছ

পাখির ডিম

ছোট সরীসৃপ বা ব্যাঙ

এরা খুব দ্রুতগামী ও সতর্ক প্রকৃতির প্রাণী। সাধারণত আক্রমণাত্মক নয়, কিন্তু বিপদের সময় আত্মরক্ষার জন্য কামড় দিতে পারে

মানুষের সাথে সম্পর্ক:

অনেক সময় মানুষ এদের ক্ষতিকর মনে করে মেরে ফেলে, যদিও বাস্তবে এরা পরিবেশের জন্য উপকারী, কারণ এরা ইঁদুর, পোকামাকড় ও অন্যান্য ক্ষতিকর প্রাণী খেয়ে নিয়ন্ত্রণে রাখে।

খাওয়া যায় কি না?

কিছু অঞ্চলে, যেমন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু আদিবাসী সমাজে গুইসাপ খাওয়া হয়। তবে:

এটি অনেক দেশে নিষিদ্ধ (বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে)

গুইসাপের মাংস থেকে জীবাণু সংক্রমণের ঝুঁকি থাকতে পারে

বাংলাদেশ ও ভারতের মতো দেশে এটি আইনগতভাবে সংরক্ষিত প্রাণী, তাই খাওয়া অবৈধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url