বড়লেখায় ভূমি অফিসে খতিয়ান জালিয়াতি: চার আসামির রিমান্ড মঞ্জুর, রয়ে গেলেন মূল হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে

 


বড়লেখায় ভূমি অফিসে খতিয়ান জালিয়াতি: চার আসামির রিমান্ড মঞ্জুর, রয়ে গেলেন মূল হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে

নিজস্ব প্রতিবেদক,বড়লেখা 

মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলা ভূমি অফিসে খতিয়ান জালিয়াতির ঘটনায় গ্রেফতার চার আসামির রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

মঙ্গলবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. আবু আফছার ভুইয়া খতিয়ান জালিয়াতির পেছনে আরও কারা জড়িত তা উদ্ঘাটনের লক্ষ্যে আসামিদের রিমান্ডের আবেদন করেন। শুনানি শেষে বড়লেখা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত সাবেক হিসাবরক্ষক রাসেন্দ কুমার দাস ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসের পরিচ্ছন্নতাকর্মী কাব্য চন্দকে দুই দিনের রিমান্ড এবং অপর দুই আসামি আব্দুল জব্বার ও আব্দুল কুদ্দুছকে জেলগেটে সাত ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন।

এর আগে, গত ৮ মে এসিল্যান্ড মোহাম্মদ আসলাম সারোয়ার অভিযুক্ত চারজনকে আটক করে থানায় সোপর্দ করেন। পরবর্তীতে উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার শামসুল হুদা নিজে বাদী হয়ে মোট পাঁচজনের বিরুদ্ধে থানায় খতিয়ান জালিয়াতির মামলা করেন।

তবে অভিযোগ রয়েছে, সার্ভেয়ার শামসুল হুদা এবং সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহশিলদার মজিদ মিয়ার সরাসরি সম্পৃক্ততায়ই এই জালিয়াতি সংঘটিত হয়েছে। কারণ ভূমি অফিসের গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ডপত্র তাদের হেফাজতেই থাকে। তা সত্ত্বেও রহস্যজনকভাবে তারা এ ঘটনায় ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছেন।

জানা গেছে, আদিত্যের মহাল মৌজার ১৮০৫ নং নামজারি খতিয়ানে আব্দুছ ছাত্তার, আব্দুল জব্বার ও আব্দুল কুদ্দুছ ২০১৯ সালে ৩৩০০ ও ৩৩০১ নং দাগে মোট ১৯ শতাংশ ৬৭ পয়েন্ট জমির নামজারি করান। কিন্তু চলতি বছরের ৮ মে রেকর্ড যাচাই করে দেখা যায়, জাল স্বাক্ষরের মাধ্যমে ১২ শতাংশ সরকারি জমি এই খতিয়ানে বেআইনিভাবে যুক্ত করা হয়। এতে সহকারি কমিশনার (ভূমি) শরীফ উদ্দিন ও সার্ভেয়ার শামসুল হুদার স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আবু আফছার ভুইয়া জানান, পুরো ঘটনার গভীর রহস্য উদ্ঘাটনে রিমান্ডে নিয়ে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url