শাহজালাল (রহ.) মাজারে শিরক ও বিদআত মুক্ত পরিবেশ গঠনে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত — সিলেটে ধর্মপ্রাণ মানুষের আনন্দের জোয়ার
শাহজালাল (রহ.) মাজারে শিরক ও বিদআত মুক্ত পরিবেশ গঠনে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত — সিলেটে ধর্মপ্রাণ মানুষের আনন্দের জোয়ার
নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট:
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সিলেটবাসীর জন্য এসেছে এক খুশির সংবাদ। বিশ্ববিখ্যাত সুফি সাধক হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর পবিত্র মাজারকে কেন্দ্র করে বহুদিন ধরে যে শিরক, বিদআত ও অনৈতিক কার্যকলাপ চলছিল, তার অবসান ঘটাতে এবার বড় ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
আজ (শনিবার) সিলেট শহরে অবস্থিত শাহজালাল (রহ.) মাজার প্রাঙ্গণে এক বিশেষ বৈঠকে বসেন আলেম-উলামা, মাজার কমিটির সদস্যরা ও প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। বৈঠকে সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয় বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। ধর্মীয় ভাবগম্ভীরতা বজায় রাখার স্বার্থে যেসব কর্মকাণ্ড মাজার এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে, তা হলো:
নিষিদ্ধ ঘোষিত কর্মকাণ্ড: ১। মাজার প্রাঙ্গণে যেকোনো ধরনের গান-বাজনা।
২। কবরকে সেজদা করা বা অতিরিক্ত ভক্তিপূর্ণ আচরণ।
৩। গিলাফ টানানো ও এর মাধ্যমে কুসংস্কার প্রচার।
৪। মাদকদ্রব্য সেবন, যেমন মদ, গাঁজা ইত্যাদি।
এই ঘোষণার পর ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মাঝে দেখা দিয়েছে স্বস্তি ও সন্তুষ্টির আবহ। বহুদিন ধরে বিভিন্ন ইসলামিক মহল থেকে দাবি উঠছিল, যেন মাজার এলাকা পবিত্রতা ও ইসলামী আদর্শ অনুযায়ী পরিচালিত হয়।
বৈঠকে উপস্থিত আলেমগণ বলেন, “শাহজালাল (রহ.) ছিলেন তাওহিদ ও সুন্নাহর একজন সাহসী দায়ী। তাঁর নাম ব্যবহার করে যেসব কুসংস্কার চালু ছিল, তা বন্ধ হওয়া সময়ের দাবি ছিল।”
প্রশাসনের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, এই নির্দেশনা বাস্তবায়নে চলবে কঠোর নজরদারি। প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।
এই উদ্যোগকে কেন্দ্র করে আশা করা হচ্ছে, সিলেটের অন্যতম ধর্মীয় কেন্দ্রস্থল এখন থেকে আরও পবিত্র, শুদ্ধ এবং ইসলামী পরিবেশে পরিচালিত হবে — ইনশা-আল্লাহ।
