ফেসবুক-ইউটিউবে আওয়ামী লীগের পক্ষে কথা বললেই গ্রেপ্তার: অনলাইনে নজরদারি শুরু
ফেসবুক-ইউটিউবে আওয়ামী লীগের পক্ষে কথা বললেই গ্রেপ্তার: অনলাইনে নজরদারি শুরু
নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট
দেশের রাজনীতিতে নাটকীয় পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের সকল কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এর ফলে শুধু মিছিল-সমাবেশ নয়, সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম যেমন ফেসবুক ও ইউটিউবেও আওয়ামী লীগের পক্ষে কথা বললেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করা যাবে বলে জানিয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, আজ সোমবার একটি সরকারি আদেশ (গেজেট) জারি হচ্ছে, যার মাধ্যমে আওয়ামী লীগের সকল রাজনৈতিক কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হবে।
গ্রেপ্তার ও আইনি পদক্ষেপের বিস্তারিত
পুলিশ সদর দপ্তর থেকে ইতোমধ্যে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে:
> "যেখানে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের কোনো ধরনের গোপন বৈঠক, মিছিল, সমাবেশ অথবা সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার দেখা যাবে, সেখানেই গ্রেপ্তার করতে হবে।"
সোশ্যাল মিডিয়ায় মনিটরিং
কেউ ফেসবুক বা ইউটিউবে আওয়ামী লীগের পক্ষে পোস্ট, ভিডিও আপলোড, কমেন্ট বা শেয়ার করলে তাকেও গ্রেপ্তারের আওতায় আনা হবে।
এমনকি বিদেশে বসে আওয়ামী লীগের পক্ষে কথা বললেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং দেশে এলে গ্রেপ্তার করা হবে।
পুলিশের সাইবার ইউনিট ইতোমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় তৎপরতা শুরু করেছে।
আইনি ভিত্তি: পেনাল কোড ১৮৮ ধারা
সাবেক আইজিপি নূরুল হুদা বলেন,
> “কোনো সংগঠন নিষিদ্ধ হলে, এবং সরকার আদেশ জারি করলে, ওই সংগঠনের পক্ষে কাজ করা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।”
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আমিনুল ইসলাম জানান,
> “পেনাল কোডের ১৮৮ ধারায় বলা হয়েছে, সরকারের কোনো নির্দেশ অমান্য করলে ৬ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।”
সরকারি কর্মকর্তা ও পুলিশের অবস্থান
ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক বলেন,
> “নিষিদ্ধ সংগঠনের যেকোনো কার্যক্রম কঠোরভাবে দমন করা হবে। এসপিদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।”
আইজিপি বাহারুল আলম স্পষ্ট করে জানান,
> “পুলিশ সরকারের নির্দেশ অনুসারেই কাজ করছে এবং আগামীতেও করবে।”
আওয়ামী লীগের অনলাইন কার্যক্রমও বন্ধ হচ্ছে
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, বিটিআরসিকে (বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন) নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে যাতে ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটক সহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আওয়ামী লীগের পেজ, চ্যানেল, ও অ্যাকাউন্টগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়।
ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব জানান,
> “উপদেষ্টা পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিটিআরসির মাধ্যমে খুব শিগগিরই মেটা, ইউটিউব কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হবে।”
বর্তমানে ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ’ নামে ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজটির ফলোয়ার সংখ্যা প্রায় ৪০ লাখ। এই পেজসহ অন্যান্য দলীয় পেজও স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করা হবে বলে জানা গেছে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশের রাজনীতিতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। অনলাইন-অফলাইন উভয় পর্যায়ে আওয়ামী লীগের উপস্থিতি এখন আইনত নিষিদ্ধ। সরকার ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, তারা এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। আগামী দিনে এর প্রভাব দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকদের নজরে থাকবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
