বড়লেখায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ
হত্যার অভিযোগ, চুরি, মাদক-অস্ত্র ও চোরাচালানসহ আলোচিত ঘটনায় প্রশাসনের জরুরি পদক্ষেপ দাবি শরিফুল হক সাজুর
বড়লেখা উপজেলার সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কাতার বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সাবেক উপদেষ্টা শরিফুল হক সাজু। আলোচিত বিভিন্ন ঘটনা উল্লেখ করে তিনি প্রতিটি ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে শরিফুল হক সাজু বলেন, গত দুই মাসে বড়লেখার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। একের পর এক আলোচিত ঘটনা নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে।
ফেসবুক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, আব্দুল হক মেম্বারের মৃত্যুকে ঘিরে হত্যার অভিযোগ ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি উঠেছে। একইভাবে গৃহবধূ মরিয়ম আক্তার মুন্নির মৃত্যুর ঘটনাতেও ন্যায়বিচার ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি রয়েছে।
এ ছাড়া বড়লেখা পৌর এলাকায় দিনের বেলায় বাসাবাড়িতে চুরির অভিযোগ, সীমান্ত এলাকায় অস্ত্র, মাদক ও চোরাচালানসংক্রান্ত বিভিন্ন ঘটনা, কাঠালতলীর ৯টি মহিষকে ঘিরে আলোচিত ঘটনা, হিন্দু সম্প্রদায়ের এক ব্যক্তির মৃত্যুকে ঘিরে হত্যার অভিযোগ এবং মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন চুরির ঘটনায় মানুষের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
শরিফুল হক সাজু বলেন, এসব ঘটনা সত্য হলে প্রতিটি ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। আর কোনো অভিযোগের সত্যতা না থাকলে সেটিও তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়া জরুরি।
মৌলভীবাজার জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রশাসনের সঙ্গে জরুরি ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করা প্রয়োজন। আলোচিত প্রতিটি ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তদারকি এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করারও দাবি জানান তিনি।
এ ছাড়া দায়িত্ব পালনে কোনো কর্মকর্তার গাফিলতি প্রমাণিত হলে তাকেও জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান জানান শরিফুল হক সাজু।
তিনি আরও বলেন, বড়লেখার মানুষ এখন শুধু আশ্বাস শুনতে চায় না। তারা নিরাপদে থাকতে চায়, সত্য জানতে চায় এবং প্রতিটি ঘটনার ন্যায়সংগত বিচার দেখতে চায়।
ফেসবুক পোস্টের শেষাংশে তিনি বলেন, একটি এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মানুষের আস্থা কমে গেলে তার প্রভাব শুধু প্রশাসনের ওপর নয়, সরকারের ওপরও পড়ে। তাই সময় থাকতে বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
বড়লেখার মানুষের নিরাপত্তা ও আস্থা ফিরিয়ে আনতে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।