মুন্নির মৃত্যু নিয়ে ময়নাতদন্তে আত্মহত্যার তথ্য, গুজব না ছড়ানোর আহ্বান ওসির
মৌলভীবাজারের বড়লেখায় গৃহবধূ মরিয়ম আক্তার মুন্নি (২২)-এর মৃত্যু নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া হত্যাকাণ্ডের অভিযোগের বিষয়ে প্রকৃত তথ্য তুলে ধরেছেন বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান খান। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে মুন্নির মৃত্যু ঝুলে থাকার কারণে শ্বাসরোধজনিত এবং তা জীবদ্দশায় সংঘটিত আত্মহত্যা বলে চিকিৎসক মতামত দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বড়লেখা থানায় প্রাপ্ত ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর ওসি মনিরুজ্জামান খান এ তথ্য জানান। গত ২১ আগস্ট বিকেল ৫টার দিকে বড়লেখা থানাধীন মুরিরগুল গ্রামে মরিয়ম আক্তার মুন্নির আত্মহত্যার সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে তাঁর বসতবাড়ির টয়লেটের টিনের চালার কাঠের তীরের সঙ্গে ওড়না দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় মরদেহ দেখতে পায় পুলিশ। পরে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়।
ওসি জানান, এ সময় মৃতার পিতা হাজী মকবুল আলী তাঁর মেয়ের মানসিক চিকিৎসার কাগজপত্র পুলিশকে দেখিয়ে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফনের জন্য অনুরোধ করেন। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে ময়নাতদন্ত প্রয়োজন হওয়ায় পুলিশ মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
পরে মৃতার পিতার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৪ ধারায় বড়লেখা থানায় অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা নম্বর-৩১, তারিখ ২১ আগস্ট ২০২৬ রুজু করা হয়। এরপর প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ মরদেহটি মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ণয়ের জন্য ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়।
এদিকে মুন্নির পরিবারের পক্ষ থেকে বড়লেখা উপজেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, শ্বশুরবাড়ির ননদ, শাশুড়ি ও ভাসুর নির্যাতন করে মুন্নিকে হত্যা করে ঝুলিয়ে রেখেছেন। পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে অনুসন্ধান অব্যাহত রাখে।
তবে বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) হাসপাতাল থেকে পাওয়া ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে চিকিৎসক মতামতে উল্লেখ করেছেন: “Death was due to asphyxia resulting from hanging which was antemortem and suicidal in nature.”
অর্থাৎ, চিকিৎসকের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে মুন্নির মৃত্যু ঝুলে থাকার কারণে শ্বাসরোধজনিত এবং তা জীবদ্দশায় সংঘটিত আত্মহত্যাজনিত মৃত্যু বলে মতামত দেওয়া হয়েছে।
ওসি মনিরুজ্জামান খান বলেন, ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো কোনো ব্যক্তি হত্যাকাণ্ড হিসেবে বিভিন্ন বক্তব্য ও প্রচার চালাচ্ছেন। এমনকি আগামী ৪ সেপ্টেম্বর বাদ জুমা বড়লেখা শহীদ মিনারে মানববন্ধনের জন্য ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে প্রচারণা চালানোর বিষয়টিও পুলিশের নজরে এসেছে।
তিনি বড়লেখা থানার সর্বস্তরের নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোনো ঘটনার প্রকৃত তথ্য ও আইনগত অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর, অসত্য বা উসকানিমূলক তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকতে হবে। এ ধরনের প্রচার জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণ হতে পারে।
ওসি আরও বলেন, “সকলের সহযোগিতায় প্রকৃত তথ্যের ভিত্তিতে আইনগত প্রক্রিয়া পরিচালনা এবং শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা সম্ভব।”
