লাগামহীন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ বড়লেখা সহ আশপাশের জনপদ


বড়লেখা উপজেলা সহ আশেপাশের এলাকায় দুপুর থেকে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হলেও বড়লেখা উত্তর চৌমুহনী থেকে উত্তর পাশের বিস্তীর্ণ এলাকা এবং  ০৮নং দক্ষিণভাগ উত্তর ইউনিয়ন,১০নং দক্ষিণভাগ দক্ষিণ ইউনিয়ন সহ উপজেলার আরো দুর্গম এলাকায় রাত পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দুপুরে পুরো উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। পরে উত্তর চৌমুহনী থেকে বড়লেখা বাজারসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু হলেও উত্তর পাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় বিদ্যুৎ ফেরেনি। এতে ওই এলাকার বাসিন্দাদের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।

বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা জানান, সারাদিনে সন্ধ্যার পর মাত্র আনুমানিক ৩০ থেকে ৪০ মিনিটের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ দেওয়া হয়েছিল। এরপর আবারও বিদ্যুৎ চলে যায়। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

বর্তমানে এইচএসসি পরীক্ষা চলমান থাকায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন পরীক্ষার্থীরা। পর্যাপ্ত আলোর অভাবে অনেক শিক্ষার্থী সন্ধ্যার পর পড়াশোনা করতে পারছেন না। একই সঙ্গে মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ইলেকট্রনিক ডিভাইস চার্জ দিতে না পারায় ভোগান্তি আরও বেড়েছে।

লোডশেডিংয়ের কারণে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়েছেন। কম্পিউটার, ফটোকপি, প্রিন্টিং, অনলাইন সেবা, মোবাইল সার্ভিসিংসহ বিদ্যুৎনির্ভর বিভিন্ন ব্যবসা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। দোকানপাটে পর্যাপ্ত আলো না থাকায় ক্রেতা-বিক্রেতাদের স্বাভাবিক কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।

এ ছাড়া দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় বাসাবাড়িতে পানির পাম্প চালানো, ফ্রিজসহ প্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার এবং মোবাইল ও ইন্টারনেট ডিভাইস সচল রাখা সম্ভব হচ্ছে না। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে বিদ্যুৎহীনতায় শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, বিদ্যুৎ সরবরাহে কোনো সমস্যা দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত সমস্যার কারণ ও বিদ্যুৎ স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাব্য সময় জানানো। কিন্তু দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে।

তারা দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার পাশাপাশি বারবার বিদ্যুৎ বিভ্রাটের প্রকৃত কারণ নির্ণয় করে স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।


Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url