জাফর ইকবাল কেন বাড়িতে গেলে রোগীর ভিডিও করেন না?

 


জাফর ইকবাল কেন বাড়িতে গেলে রোগীর ভিডিও করেন না? 

( অনুমতি ছাড়া এই নিউজ কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ )

সাম্প্রতিক এক ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে সবাইকে অনুরোধ জানিয়ে বলেছেন, দয়া করে রোগীর ভিডিও তৈরির জন্য কেউ যেন সরাসরি তার বাড়িতে না যান। তিনি জানান, এই কথাটি বলতে তার কষ্ট হলেও বাস্তবতার কারণেই আজ তিনি বাধ্য হয়েছেন বিষয়টি স্পষ্ট করতে।

তিনি বলেন, সম্প্রতি বরমচালের এক মেয়ের চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার পর অনেকেই ধারণা করেন, তার বাড়িতে গিয়ে দেখা করলেই দ্রুত ভিডিও তৈরি করিয়ে সাহায্য পাওয়া যাবে। কিন্তু তিনি শুরু থেকেই বলে আসছেন, বাড়িতে এসে অনুরোধ করলেও তিনি ভিডিও তৈরি করবেন না। এই সিদ্ধান্তের কারণে আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব এমনকি পাড়া-প্রতিবেশীর সঙ্গেও অনেক সময় সম্পর্কের অবনতি হয়েছে।

জাফর ইকবাল বলেন, অনেক রোগীর চিকিৎসায় ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত প্রয়োজন হয়। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, ৬৪-৬৫ বছর বয়সী কোনো রোগীর কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট ও চিকিৎসার জন্য বিপুল অর্থের দরকার হতে পারে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে,কয়েকজন প্রবাসী ও দেশের মানুষের সহযোগিতায় কি পুরো দেশের সব রোগীর দায়িত্ব নেওয়া সম্ভব? যদি এত বিপুল অর্থ ব্যয় করার পরও রোগীকে বাঁচানো না যায়, তাহলে সেই অর্থ ব্যয়ের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন থেকে যায়।

তিনি আরও বলেন, অনেক সময় আইসিইউ বা সিসিইউতে থাকা রোগীদের পরিবার প্রতিদিনের বিশাল বিল পরিশোধের জন্য সাহায্য চান। কিন্তু প্রতিদিন কয়েক হাজার বা লাখ টাকা ব্যয় করে দীর্ঘমেয়াদে সহায়তা চালিয়ে যাওয়া একজন মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। তবুও মানুষ আশা করেন, তিনি যেন সব রোগীর জন্য ভিডিও করেন। পরে কোনো কারণে সাহায্য না পেলে অনেকে তাকে ভুল বোঝেন কিংবা দোষারোপ করেন।

( অনুমতি ছাড়া এই নিউজ কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ )

জাফর ইকবাল জানান, তিনি মূলত সেইসব অসহায় শিশু ও ছোট রোগীদের অগ্রাধিকার দেন, যাদের সামনে এখনও পুরো জীবন পড়ে আছে এবং চিকিৎসা পেলে সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে। তার মতে, সমাজের মানুষের দেওয়া সহায়তা এমন জায়গায় ব্যয় হওয়া উচিত, যেখানে একজন মানুষ নতুন জীবন ফিরে পাওয়ার বাস্তব সম্ভাবনা রাখে।

তিনি আরও বলেন, কিছু মানুষ আছেন যারা প্রকৃত অসহায় নন, তবুও ভিডিওর মাধ্যমে সাহায্য নিতে চান। কেউ কেউ মনে করেন, জাফর ইকবালের ভিডিওতে সাহায্য পেলে সহজেই অর্থ পাওয়া যাবে। কিন্তু তথ্য যাচাই করতে গিয়ে যখন তিনি দেখেন তাদের আর্থিক অবস্থা স্বাভাবিক বা ভালো, তখন তিনি ভিডিও করেন না। আর সেই কারণেই অনেকে তার প্রতি নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন।

বাড়িতে না আসার অনুরোধের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, অনেক সময় তিনি বাইরে থাকেন। তখন তার মা ঘর থেকে বের হয়ে মানুষের কান্নাকাটি দেখেন এবং এতে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। অথচ তার পরিবারের পক্ষে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। তাই তিনি সবাইকে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানান।

( অনুমতি ছাড়া এই নিউজ কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ )

জাফর ইকবাল বলেন, মানুষ যদি সত্যিকারের অসহায় রোগীর তথ্য পাঠান, তাহলে তিনি সময় নিয়ে যাচাই করেন। প্রয়োজন হলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে নিজে গিয়ে বাস্তবতা দেখে আসেন। বর্তমানে তিনি ওসমানীনগরের এক আইসক্রিম বিক্রেতার সন্তানের চিকিৎসার জন্য যাচ্ছেন বলেও জানান। এলাকার মানুষের মাধ্যমে তথ্য পেয়ে সত্যতা যাচাই করেই তিনি সেখানে যাচ্ছেন।

সবশেষে তিনি বলেন, “আমি একা একজন মানুষ। প্রতিদিন অসংখ্য অনুরোধ আসে। সবার জন্য একসঙ্গে কিছু করা সম্ভব নয়। তাই ধৈর্য ধরুন, হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করুন। আমি যতটুকু পারি, আমার সর্বোচ্চ দিয়ে মানবতার জন্য কাজ করে যাব।

( অনুমতি ছাড়া এই নিউজ কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ )

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url