কুলাউড়া উপজেলার পৃথিমপাশা ইউনিয়নের রবিরবাজারে এক দোকান কর্মচারীর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে।

 

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার পৃথিমপাশা ইউনিয়নের রবিরবাজারে এক দোকান কর্মচারীর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার সকালে দৌলতপুর গ্রামের বাসিন্দা বিকাশ দাস বিমান (৫৫)-এর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিরবাজারের ‘মেসার্স প্যারাগন এলপি গ্যাস স্টোর’ নামক একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী হিসেবে প্রায় পাঁচ বছর ধরে কর্মরত ছিলেন বিকাশ দাস। ইটাহরি গ্রামের পারভেজ আহমদের মালিকানাধীন ওই প্রতিষ্ঠানে মাসিক সাত হাজার টাকা বেতনে দোকান পরিচালনা করতেন তিনি।

বুধবার সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে প্রতিবেশীরা তার বসতবাড়ির পাশে একটি গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় তাকে দেখতে পান। পরে বিষয়টি দ্রুত কুলাউড়া থানা পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

জানা গেছে, বিকাশ দাস বাড়িতে একাই বসবাস করতেন। তার স্ত্রী সবিতা রানী দাস, এক ছেলে ও এক মেয়েসহ জগন্নাথপুরে বাপের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন।

প্রতিবেশী লিটন রায়সহ স্থানীয়রা জানান, বিকাশ দাস অত্যন্ত ভদ্র, শান্ত ও অমায়িক মানুষ হিসেবে এলাকায় পরিচিত ছিলেন। তার সাথে কারো কোনো বিরোধ ছিল না। তবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক সংকটে ভুগছিলেন। কর্মরত প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত বেতনের বাইরে বিভিন্ন সময়ে দোকানের অর্থ ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ব্যয় করায় তিনি দোকান মালিকের কাছে প্রায় এক লক্ষ ত্রিশ হাজার টাকা ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন।

স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে সিদ্ধান্ত হয়, চলতি মাসের ৩০ এপ্রিলের মধ্যে ওই পাওনা পরিশোধ করবেন তিনি। এছাড়াও বিভিন্ন এনজিও ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছেও তিনি ঋণগ্রস্ত ছিলেন বলে জানা যায়। এসব ঋণের চাপ ও মানসিক উদ্বেগের কারণে তিনি এ পথ বেছে নিয়েছেন বলে স্থানীয়দের ধারণা।

এ বিষয়ে ‘মেসার্স প্যারাগন এলপি গ্যাস স্টোর’-এর মালিক পারভেজ আহমদ মুঠোফোনে জানান, বিকাশ দাস দীর্ঘদিন ধরে তার দোকান পরিচালনা করছিলেন। তিনি চাকরির কারণে সিলেটে অবস্থান করেন। নির্ধারিত বেতনের বাইরে দোকানের কিছু অর্থ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করায় ধীরে ধীরে তার কাছে পাওনা এক লক্ষ ত্রিশ হাজার টাকায় দাঁড়ায়। পরবর্তীতে পাওনা টাকা সমন্বয়ের জন্য তিনি স্বল্প বেতন নিতেন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাকি টাকা পরিশোধের বিষয়ে স্থানীয়ভাবে সিদ্ধান্ত হয়।

কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মোল্লা জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সূত্রঃ জংশন কুলাউড়া

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url