অজানা রূপের রাংপানি: সিলেটের নতুন পর্যটন সম্ভাবনা

 

ডেস্ক রিপোর্ট:

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অফুরন্ত ভাণ্ডার সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার মোকামপুঞ্জি এলাকায় অবস্থিত রাংপানি। চারপাশে পাহাড়, বন আর চা-বাগান; সাথে সাদা পাথর ও স্বচ্ছ জলের অপার সৌন্দর্যে ভরপুর এ স্থানটি এখনও অধিকাংশ পর্যটকের কাছে অচেনাই রয়ে গেছে। সিলেট শহর থেকে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার দূরের এ স্থান জাফলং হয়ে শ্রীপুর পার হয়ে মোকামপুঞ্জি এলাকায় নেমে এক কিলোমিটার পাহাড়ি পথ হেঁটে পৌঁছাতে হয়। দুর্গম পথ আর বড় বড় পাথর পেরোতে কষ্ট হলেও গন্তব্যে পৌঁছে পর্যটকরা বিমোহিত হয়ে পড়েন।


রাজধানীর গাজীপুর থেকে ঘুরতে আসা নবদম্পতি সাবিনা আক্তার বলেন, কাদা আর পাথরের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়া সত্যিই কঠিন। তবে রাংপানির সৌন্দর্য দেখে সমস্ত ক্লান্তি দূর হয়ে যায়। সাদাপাথরের ফাঁকে স্ফটিকস্বচ্ছ পানিতে ভেসে থাকা এক অনন্য অভিজ্ঞতা। স্থানীয় খাসিয়া সম্প্রদায়ের সদস্য জয়দেব জানান, ছোটবেলায় এখানে বাংলা চলচ্চিত্রের শুটিং হতে দেখেছেন। কিন্তু প্রচারের অভাবে এ স্থানটি লোকচক্ষুর আড়ালেই থেকে গেছে। তাই রাংপানিকে পর্যটন এলাকা হিসেবে পরিচিত করার জন্য প্রশাসনের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জর্জ মিত্র চাকমা বলেন, শ্রীপুর রাংপানিতে প্রচুর পাথর রয়েছে, যার টানে পর্যটকরা নিয়মিত ভিড় করেন। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা পেলে নিরাপত্তা ও সুবিধা উন্নয়নের মাধ্যমে এটিকে আরও আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। পরিবেশবাদী সংগঠন ভূমিসন্তান বাংলাদেশের প্রধান সমন্বয়কারী আশরাফুল কবির জানান, রাংপানি মূলত শ্রীপুর দিয়ে প্রবাহিত একটি নদীর নাম। আগে এখানে অনেক চলচ্চিত্রের শুটিং হতো এবং পর্যটকদের আনাগোনাও ছিলো। কিন্তু পাথর খনি হিসেবে ইজারা দেওয়ার কারণে এর সৌন্দর্য নষ্ট হয়। গত কয়েক বছর ধরে পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকায় রাংপানি আবার তার হারানো সৌন্দর্য ফিরে পাচ্ছে। তিনি এটিকে ঐতিহ্য হিসেবে সংরক্ষণের পাশাপাশি সুপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পর্যটন এলাকায় রূপ দেওয়ার পরামর্শ দেন।

মেঘালয়ের জৈন্তা পাহাড়ের রাংহংকং জলপ্রপাত থেকে রাংপানি নদীর উৎপত্তি। স্থানীয়দের কাছে এটি শ্রীপুর পাথর খনি নামেও পরিচিত। তবে সবকিছু মিলিয়ে রাংপানি এখনো অজানা রূপে লুকিয়ে থাকা সিলেটের এক অনন্য সম্ভাবনাময় পর্যটনকেন্দ্র।




Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url