মানসিক ভারসাম্যহীন কুলাউড়ার নারীকে মাদারীপুর থেকে বাড়ি পৌঁছে দিলেন সেনাসদস্য সৌরভ — মানবতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত
মানসিক ভারসাম্যহীন কুলাউড়ার নারীকে মাদারীপুর থেকে বাড়ি পৌঁছে দিলেন সেনাসদস্য সৌরভ — মানবতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত
মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের এক মানসিকভাবে অসুস্থ নারী হঠাৎ করেই চলে আসেন মাদারীপুরের টেকেরহাট এলাকায়। কীভাবে সেখানে এসেছেন—তা নিজেও বলতে পারছিলেন না তিনি। এমন অবস্থায় টেকেরহাট আর্মি ক্যাম্পের সামনে বৃষ্টিভেজা অবস্থায় দাঁড়িয়ে ছিলেন তিনি।
ঠিক তখনই তার দিকে নজর পড়ে টহলরত সেনাবাহিনীর সদস্যদের। উপস্থিত সেনাসদস্যদের মধ্যে ছিলেন কুলাউড়ার সন্তান সৈয়দ কামরুল ইসলাম সৌরভ। নারীর মুখে সিলেটি ভাষা শুনে তিনি এগিয়ে যান এবং আলাপ শুরু করেন। কথা বলে জানতে পারেন, ওই নারীর বাড়ি কুলাউড়ার কর্মধা ইউনিয়নে এবং স্বামীর বাড়ি ফটিকউলিতে। তিনি জানান, বাড়ি ফিরতে চান, কিন্তু কিছুই বুঝে উঠতে পারছেন না।
এমন মানবিক পরিস্থিতি দেখে সৈনিক সৌরভ তাৎক্ষণিক বিষয়টি ক্যাম্পের দায়িত্বপ্রাপ্তদের জানান। এরপর নারীকে ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়, তাকে শুকনো কাপড় ও খাবার দেওয়া হয়। তার দুরবস্থায় সেনাসদস্যরা আরও আন্তরিক হয়ে উঠেন।
পরবর্তীতে সৈনিক সৌরভ নারীর ছবি ও তথ্য দিয়ে একটি ফেসবুক পোস্ট দেন। বিষয়টি দ্রুত কুলাউড়ার সোশ্যাল মিডিয়া জগতে ছড়িয়ে পড়ে। এতে করে নারীর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন সম্ভব হয়। কাতারে অবস্থানরত তার এক নাতি যোগাযোগ করেন এবং তাকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার অনুরোধ জানান।
বিষয়টি ক্যাম্প কমান্ডারের নজরে আনলে, তিনি বিষয়টির মানবিক গুরুত্ব বিবেচনা করে সৈনিক সৌরভকে তিনদিনের ছুটি প্রদান করেন এবং নিজ উদ্যোগে নারীকে বাড়ি পৌঁছে দিতে বলেন।
মাদারীপুর থেকে মৌলভীবাজারে সরাসরি কোনো যানবাহন না থাকায় সৈনিক সৌরভ সিদ্ধান্ত নেন—মাদারীপুর থেকে ঢাকায়, সেখান থেকে মৌলভীবাজার হয়ে কুলাউড়ার কর্মধা ইউনিয়নে পৌঁছাবেন। রাতে নারীর খাবারের ব্যবস্থা করে, পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ নিশ্চিত করে তিনি রওনা হন।
সৈনিক সৌরভ বলেন, “আল্লাহর কুদরত না থাকলে হয়তো এমন কিছু ঘটতো না। ফরহাদ ভাই না থাকলে, কেউ সিলেটি ভাষা না বুঝলে হয়তো নারীটি আর কখনো বাড়ি ফিরতে পারতেন না।”
এই ঘটনার মাধ্যমে আবারো প্রমাণিত হলো—বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কেবল দেশের সুরক্ষা নয়, মানবতার সেবাতেও সদা প্রস্তুত। সৈনিক সৌরভের এই অনন্য মানবিক দৃষ্টান্ত শুধু তার ক্যাম্পেই নয়, পুরো অঞ্চলে প্রশংসা কুড়িয়েছে।
এটি নিঃসন্দেহে মানবতার এক অনন্য ও উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
