লন্ডনে পাঠানোর নামে ১৫ লাখ টাকার প্রতারণা: প্রধান আসামি কারাগারে

 



লন্ডনে পাঠানোর নামে ১৫ লাখ টাকার প্রতারণা: প্রধান আসামি কারাগারে

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট
স্বপ্নের দেশ লন্ডনে (যুক্তরাজ্য) পুত্রবধূকে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে সিলেটে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ১৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় প্রধান আসামি আহসানুল করিম খন্দকারকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

জানা গেছে, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) হযরত শাহপরান (রহ.) থানাধীন শিবগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা আহসানুল করিম খন্দকার (৪৫) পরিচয়ের সূত্র ধরে জৈন্তাপুর উপজেলার চিকনাগুল ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. আফতাব উদ্দিনের পুত্রবধূকে যুক্তরাজ্যে ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় পাঠানোর প্রস্তাব দেন। এই প্রস্তাবে রাজি হয়ে আফতাব উদ্দিন তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে তিনটি চেকের মাধ্যমে মোট ১৫ লাখ টাকা প্রদান করেন।

২০২৪ সালের ৩১ জানুয়ারি শিবগঞ্জে আহসানুল করিমের বাসায় সাক্ষীদের উপস্থিতিতে একটি লিখিত চুক্তিও সম্পাদিত হয়, যাতে ৪৫ দিনের মধ্যে ভিসার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার শর্ত ছিল। পরবর্তীতে আহসানুল করিম “KURSK LIMITED” নামে একটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে একটি সনদ (COS – Certificate of Sponsorship) প্রদান করেন। তবে সেটি যাচাই করে ভুয়া বলে সন্দেহ তৈরি হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির বাস্তব কোনো অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি এবং জমা দেওয়া কাগজপত্রেও অসংগতি দেখা যায়।

এরপর স্থানীয়দের উপস্থিতিতে সমঝোতার আশ্বাস দিয়ে আহসানুল করিম পূবালী ও সাউথইস্ট ব্যাংকের তিনটি চেক ফেরত দেন। কিন্তু ২০২৪ সালের ২৬ জুন চেকগুলো ব্যাংকে উপস্থাপন করলে তা অপর্যাপ্ত তহবিলের কারণে ডিজঅনার (বাউন্স) হয়। এ অবস্থায় তিনি পূর্বের লেনদেন অস্বীকার করেন এবং উল্টো বাদী আফতাব উদ্দিনের বিরুদ্ধেও একটি পাল্টা মামলা দায়ের করেন।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী আফতাব উদ্দিন সিলেট মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত (আমলী-৩) এ মামলা দায়ের করলে আদালত পিবিআই-কে (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) তদন্তের নির্দেশ দেন। শাহপরান থানায় এ সংক্রান্ত সিআর মামলা নম্বর ৩১৭/২০২৪ হিসেবে নথিভুক্ত হয়।

পিবিআই তদন্তে চুক্তিপত্র, ব্যাংক বিবরণী, চেক এবং সাক্ষীদের জবানবন্দি সংগ্রহ করে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আবু হানিফ ২০২৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়।

২০২৪ সালের ২৭ জুন মামলার প্রধান আসামি আহসানুল করিম খন্দকার আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে আদালত তা নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তদন্তে আহসানুল করিমের ছেলের সম্পৃক্ততার বিষয়টিও উঠে এসেছে। তার বিরুদ্ধেও আইনি কার্যক্রম চলমান রয়েছে, তবে মামলার তদন্ত শেষ না হওয়ায় এখনই এ বিষয়ে চূড়ান্ত মন্তব্য করতে রাজি হননি সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে মামলার বাদী আফতাব উদ্দিন বলেন, “আমার ছেলে বর্তমানে লন্ডনে অবস্থান করছেন। পুত্রবধূকে সেখানে পাঠানোর আশায় আমি এই চুক্তি করেছিলাম। কিন্তু প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় এবং চেক বাউন্স হওয়ার পর আমি আইনি আশ্রয় নিতে বাধ্য হই। বিবাদী প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিচয়ের সুযোগ নিয়ে প্রতারণা করেছেন। আমি বিশ্বাস করি, আদালত থেকে ন্যায়বিচার পাব।”



Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url