সিলেটে ঘোষণা দিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ একজন নিহত আহত অনেকেই
সিলেটে ঘোষণা দিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ একজন নিহত আহত অনেকেই
নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট:
সিলেট বিভাগের হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জে পূর্বঘোষণা অনুযায়ী দুই গ্রামের মধ্যে দফায় দফায় ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আনমনু ও তিমিরপুর গ্রামের মধ্যে চলা এই সংঘর্ষে পুরো নবীগঞ্জ শহরজুড়ে নেমে আসে নৈরাজ্য। সংঘর্ষে একজন নিহত এবং শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। ভাঙচুর ও লুটপাটের শিকার হয়েছে শতাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, বেসরকারি হাসপাতাল ও যানবাহন।
পূর্বঘোষণায় সংঘর্ষ
সোমবার (৭ জুলাই) সকালে আনমনু ও তিমিরপুর গ্রামের লোকজন পৃথক পৃথকভাবে প্রস্তুতিমূলক সভা করে বিকেল ৩টায় সংঘর্ষের ঘোষণা দেয়। ঘোষিত সময় অনুযায়ী দুই গ্রামের শত শত মানুষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়। সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে নবীগঞ্জ পৌরসভার আনমনু, নোয়াপাড়া, রাজাবাদ, পূর্ব ও পশ্চিম তিমিরপুর, চরগাঁওসহ আশপাশের এলাকাগুলোতে। এতে কয়েক হাজার নারী-পুরুষ জড়িত হন। সংঘর্ষ চলাকালে একপর্যায়ে তিমিরপুর গ্রামের অ্যাম্বুলেন্স চালক ফারুক মিয়া (৪২) নিহত হন।
শহরজুড়ে তাণ্ডব
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষ চলাকালে দুই শতাধিক দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাট হয়। ইউনাইটেড হাসপাতাল, মাছ বাজার, হোটেল হাসেমবাগসহ শহরের প্রধান সড়কের দোকানপাটে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। হাসপাতাল রোড ও মধ্য বাজারের প্রায় প্রতিটি দোকানই আক্রমণের শিকার হয়। ব্যাটারিচালিত মিশুকের ব্যাটারি চুরি, কয়েকটি মিশুকে অগ্নিসংযোগ ও মোটরসাইকেল ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
এক ব্যবসায়ী শামীম আহমদ জানান, সংঘর্ষের সুযোগে একটি সংঘবদ্ধ চক্র বাজারে ঢুকে হামলা ও লুটপাট চালায়। গত চার দিনে অন্তত ৫০টির বেশি দোকান লুটপাটের শিকার হয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যৌথবাহিনী
সংঘর্ষ চলাকালে প্রায় চার ঘণ্টা ধরে শহরে অরাজকতা বিরাজ করে। সন্ধ্যায় যৌথবাহিনীর (পুলিশ ও সেনাবাহিনী) হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে। প্রশাসন শহর ও আশপাশের এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে।
সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার অভিযোগ
স্থানীয়দের অভিযোগ, আনমনু (মৎস্যজীবী অধ্যুষিত) ও তিমিরপুর (অমৎস্যজীবী অধ্যুষিত) গ্রামের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনাকে ঘিরে একটি বিশেষ মহল সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার চেষ্টা করছে। এরই ধারাবাহিকতায় রামপুর, মান্দারকান্দি, বাংলাবাজার, দুর্লভপুরসহ বিভিন্ন গ্রামে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
শুক্রবার রাতে ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের যুবলীগ সভাপতি ও গণঅধিকার পরিষদের সহ-সভাপতি আশাহিদ আলী আশা এবং তিমিরপুর গ্রামের খরছু তালুকদারের মধ্যে ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এরপর থেকেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
ব্যর্থ হলো সালিশি উদ্যোগ
সংঘর্ষ ঠেকাতে স্থানীয় সাবেক সংসদ সদস্য শেখ সুজাত মিয়া, জামায়াত মনোনীত এমপি প্রার্থী শাহজাহান আলী, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সরফরাজ আহমদ চৌধুরী, গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা আবুল হোসেন জীবন প্রমুখ সালিশি উদ্যোগ নিলেও কোনো পক্ষই তা মানেনি।
প্রশাসনের অবস্থান
নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মো. কামরুজ্জামান জানান, “ঘটনার তদন্ত চলছে। শহরে অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন রয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ তৎপরতা চালাচ্ছে।”
