জুড়ীতে গরু চোর সন্দেহে তথ্য দেওয়ায় ইউপি সদস্যকে জুতা পেটা, যুবক গ্রেফতার
জুড়ীতে গরু চোর সন্দেহে তথ্য দেওয়ায় ইউপি সদস্যকে জুতা পেটা, যুবক গ্রেফতার
ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল সোমবার (১৪ জুলাই) রাত ৯টার দিকে উপজেলার ভবানীগঞ্জ বাজারের কলেজ সড়ক এলাকায়। স্থানীয় লোকজন সুমন মিয়া (৩০) নামে ওই যুবককে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।
গ্রেপ্তারকৃত সুমন মিয়া ধামাই চা-বাগান এলাকার বাসিন্দা এবং লোহার গ্রিল তৈরির একটি দোকানের শ্রমিক। ভুক্তভোগী ইউপি সদস্য হলেন পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য লাচনা নাইডু (৫৫)।
এ ঘটনায় সোমবার রাতেই লাচনা নাইডু বাদী হয়ে জুড়ী থানায় সুমনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মঙ্গলবার সকালে জুড়ী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কবির আহমদ জানান, গ্রেপ্তার সুমনকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
তিন মাস আগের ঘটনার জেরে লাঞ্ছনা
মামলার এজাহারে বলা হয়, প্রায় তিন মাস আগে ধামাই চা-বাগান এলাকায় রাতে ‘গরু চোর’ সন্দেহে এলাকাবাসী সুমনকে আটক করে বেঁধে রাখেন। খবর পেয়ে ইউপি সদস্য লাচনা নাইডু ঘটনাস্থলে গিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান ও পুলিশকে বিষয়টি জানান। পরে পুলিশ এসে সুমনকে থানায় নিয়ে যায় এবং পরদিন তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এ ঘটনার জের ধরেই গত রোববার (১৩ জুলাই) সকালে ভবানীগঞ্জ বাজারের একটি রেস্তোরাঁয় নাশতা করছিলেন ইউপি সদস্য লাচনা নাইডু ও একই ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মনীন্দ্র রুদ্রপাল। এ সময় সুমন সেখানে উপস্থিত হয়ে লাচনাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন এবং অভিযোগ করেন, “তুই পুলিশ দিয়া ধরাইছছ”। একপর্যায়ে তাঁর শার্টের কলার ধরে টেনে বাইরে নিয়ে গিয়ে জুতাপেটা করেন।
সঙ্গে থাকা ইউপি সদস্য মনীন্দ্র রুদ্রপাল বাধা দিলেও সুমন থামেননি। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং সুমনকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন।
পুলিশ জানায়, ঘটনার পর সুমন কিছু সময় পলাতক ছিলেন। পরে স্থানীয় ইউপি সদস্য জসিম উদ্দিনের নেতৃত্বে এলাকাবাসী তাঁকে কলেজ সড়ক এলাকা থেকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।
সূত্র: প্রথমআঁলো
