ছাতকে কিশোর নির্যাতন: আড়াই লাখ টাকায় ধামাচাপার অভিযোগ

 



ছাতকে কিশোর নির্যাতন: আড়াই লাখ টাকায় ধামাচাপার অভিযোগ

ডেস্ক রিপোর্টার, ছাতক

সুনামগঞ্জের ছাতকে এক কিশোরকে অমানবিক নির্যাতনের পর তার দুটি চোখ নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। এখানেই ক্ষান্ত হয়নি নির্যাতনকারীরা—তাকে চুরির মামলায় ফাঁসিয়ে পুরো ঘটনার বিচার আড়াই লাখ টাকার বিনিময়ে ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আদালতের নির্দেশে কিশোরের চিকিৎসা ও ঘটনার তদন্ত শুরুর পর প্রভাবশালী মহল অর্থের লোভ দেখিয়ে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

মাদক ব্যবসার গোপন তথ্য ফাঁস করে বিপদে

জানা গেছে, সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার লামাকাজী ইউনিয়নের আকিলপুর গ্রামের সবজি ব্যবসায়ী রমিজ আলীর ছাতক বাজারের সবজি দোকানে কাজ করতো কামিল আলী (১৩)। সে সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলার কালারুকা ইউনিয়নের হাসনাবাদ গ্রামের আবদুল হামিদের ছেলে।

সবজি ব্যবসার আড়ালে রমিজ আলী ও তার ছেলেরা দোকানের কর্মচারী কামিলের অজান্তে মাদক পরিবহন করতো। একদিন কামিলের মাথা থেকে মাদকের কার্টুন পড়ে গিয়ে ক্ষতি হলে রমিজ আলী তাকে কিছু টাকা দিয়ে বিষয়টি চেপে যেতে বলে। কিন্তু কামিল পরিবারকে সব জানিয়ে চাকরি ছেড়ে দেয়। পরে রমিজ আলী কিশোরের লোভী পিতাকে টাকা দিয়ে আবার ছেলেকে দোকানে নিয়ে আসে। কিন্তু কামিল মাদক ব্যবসার কথা বিভিন্ন জনকে বলে দিলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে রমিজ আলী ও তার ছেলেরা।

হত্যা চেষ্টার অভিযোগ

গত ৩০ জুন সকালে কামিলকে চোর অপবাদ দিয়ে সারাদিন শারীরিক নির্যাতন চালায় তারা। এক পর্যায়ে তাকে হত্যা উদ্দেশ্যে একটি বিল্ডিংয়ের তৃতীয় তলা থেকে ফেলে দেয়। এতে গুরুতর আহত হয় কিশোর কামিল।

পরবর্তীতে রমিজ আলী নিজের ছেলে মোস্তাকিমকে বাদী করে কামিলের বিরুদ্ধে ছাতক থানায় চুরির মামলা (নং-০১, জিআর ১৮৯/২৫) দায়ের করেন। মামলার এফআইআরে কামিলের বয়স ১৩ বছর হলেও ২০ বছর উল্লেখ করা হয় এবং থানা পুলিশ কোনো যাচাই ছাড়াই রাতভর হাজতে রাখে।

আদালতের নির্দেশনা

পরদিন কামিলকে আদালতে পাঠানো হলে সুনামগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহ জামিন দেন এবং তার শারীরিক নির্যাতনের আলামত দেখে চিকিৎসা ও তদন্তের নির্দেশ দেন। আদালত সহকারী পুলিশ সুপার (দিরাই সার্কেল) মো. শরিফুল হককে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলেন।

ধামাচাপা ও মধ্যস্থতাকারীর অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

তদন্ত শুরুর পরই প্রভাবশালী মহল কিশোরের পরিবারকে অর্থের লোভ দেখায়। শেষ পর্যন্ত স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতা মিজানুর রহমান আমরুর মধ্যস্থতায় মাত্র আড়াই লাখ টাকায় বিষয়টি মীমাংসা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে মিজানুর রহমান এই অভিযোগ অস্বীকার করে দায় কিশোরের পিতার ওপর চাপিয়েছেন।

ক্ষোভ ও শঙ্কা

স্থানীয়দের অভিযোগ, আড়াই লাখ টাকায় এমন জঘন্য অপরাধ ধামাচাপা দেওয়া হলে ভবিষ্যতে বড় অপরাধে উৎসাহিত হবে এই চক্র। কিশোরের পিতা আবদুল হামিদের ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

ছাতক থানার ওসি মোখলেছুর রহমান জানান, এজাহারে আসামির বয়স ২০ বছর বলা হলেও তারা কিশোর হিসেবেই প্রতিবেদন দিয়েছেন। তদন্ত কর্মকর্তা সহকারী পুলিশ সুপার শরিফুল হক জানিয়েছেন, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।




Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url