বড়লেখায় চোরাই মহিষ আটক নিয়ে উত্তেজনা, এলাকাবাসীর বাধায় বিজিবি মহিষ ছেড়ে দেয়
বড়লেখায় চোরাই মহিষ আটক নিয়ে উত্তেজনা, এলাকাবাসীর বাধায় বিজিবি মহিষ ছেড়ে দেয়
বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) বিকেলে উপজেলার নিজ বাহাদুরপুর ইউনিয়নের ইটাউরি গ্রামে প্রথম ঘটনাটি ঘটে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিজিবি-৫২ ব্যাটালিয়নের লাতু ক্যাম্পের সদস্যরা ওই গ্রামে অভিযান চালিয়ে কৃষক সৈয়দ বিলাল আহমদের ৪টি ও খালেদ আহমদের ৭টি মহিষ আটক করে। বিজিবির দাবি, এগুলো ভারতীয় চোরাই মহিষ।
তবে মহিষগুলো গৃহপালিত দাবি করে এলাকাবাসী তীব্র প্রতিবাদ জানায় এবং রাস্তায় চরম উত্তেজনা সৃষ্টি করে। শতাধিক গ্রামবাসী বিজিবির গাড়ি ঘিরে ফেলে এবং বাধা দেয়ায় বিজিবি শেষ পর্যন্ত মহিষগুলো ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য সাজু আহমদ জানান, “মহিষগুলো এলাকার কৃষকদের। তাই আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি।”
লাতু ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার ভবেশ চন্দ্র রাহুত বলেন, “গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মহিষগুলো আটক করা হয়েছিল। কিন্তু এলাকাবাসী গৃহপালিত দাবি করে আমাদের বাধা দেয়ায় মহিষগুলো ছাড়তে হয়।”
উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিক উদ্দিন আহমদ বলেন, “বিজিবি সঠিকভাবে চোরাই মহিষ শনাক্ত করেছিল। কিন্তু জনগণ উত্তেজিত হয়ে পড়ে এবং আমরা সবাই পরে বিজিবির কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছি।”
অপরদিকে, একই দিন দুপুরে বড়লেখার সীমান্তবর্তী বড়াইল এলাকা থেকে পৃথক অভিযানে ১০টি ভারতীয় চোরাই মহিষ আটক করে বিজিবির একটি টহল দল। সীমান্তের জিরো লাইন থেকে প্রায় ২০০ গজ অভ্যন্তরে থেকে মহিষগুলো আটক করা হয়। বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারীরা পালিয়ে যায়। পরে শুক্রবার দুপুরে মহিষগুলো কাস্টমসে হস্তান্তর করা হয়।
বিজিবি-৫২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্ণেল মোহাম্মদ আরিফুল হক চৌধুরী জানান, “বিজিবির অভিযানে আটককৃত ভারতীয় অবৈধ মহিষগুলো যথাযথ প্রক্রিয়ায় কাস্টমসে জমা দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
বাজারদর অনুসারে আটককৃত মহিষগুলোর মোট মূল্য প্রায় ১৫ লাখ টাকা বলে জানা গেছে।
