জুড়ীতে মাতৃত্বকালীন ভাতা আত্মসাৎ : প্রতিবেদন প্রকাশে সাংবাদিককে হত্যার হুমকি


জুড়ীতে মাতৃত্বকালীন ভাতা আত্মসাৎ : প্রতিবেদন প্রকাশে সাংবাদিককে হত্যার হুমকি

নিজস্ব প্রতিবেদক, জুড়ী:

মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী উপজেলায় মহিলা বিষয়ক অফিসের একজন খণ্ডকালীন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে হতদরিদ্র মায়েদের মাতৃত্বকালীন ভাতা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেছেন ভুক্তভোগী প্রায় ১৫ থেকে ২০ জন নারী।

অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্ত কর্মকর্তা সাব্বির আহমেদ বেশ কয়েক বছর ধরে মহিলা বিষয়ক কার্যালয়ে খণ্ডকালীন কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি নিজেই প্রাইম ব্যাংকের একটি এজেন্ট শাখা এনে, সেখানে হতদরিদ্র নারীদের অ্যাকাউন্ট খুলে প্রতারণার মাধ্যমে তাদের মাতৃত্বকালীন ভাতার টাকা আত্মসাৎ করেন।

এ বিষয়ে সংবাদ প্রচার করায় স্থানীয় সাংবাদিক ও জুড়ী রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মনিরুল ইসলামকে হত্যার হুমকি দিয়েছেন অভিযুক্ত সাব্বির আহমেদ। মনিরুল ইসলাম দৈনিক সকালের সময়, বিডি ২৪ লাইভ, মাইটিভি, ডেইলি অবজারভার ও সিলেট বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর লাইভের প্রতিনিধিত্ব করেন।

ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে মোবাইল ব্যাংকিং ও বিভিন্ন ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে সরকারপ্রদত্ত ভাতার টাকা তারা পাননি। সাংবাদিক মনিরুল ইসলাম বিষয়টি অনুসন্ধান করতে গিয়ে গত ২৮ মে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে উপস্থিত হয়ে ভূক্তভোগী নারীদের বক্তব্য গ্রহণ করেন। তাদের বক্তব্যে উঠে আসে অফিসে কর্মরত কিছু কর্মকর্তার সরাসরি জড়িত থাকার বিষয়টি।

খবর প্রচারের পর ৩০ মে শুক্রবার আনুমানিক বিকেল ৩:৩০টায় ০১৭১৭৭২১৯৮২ ও ০১৭২৩৪৪৬১১৩ নাম্বার থেকে ফোন করে সাংবাদিক মনিরুল ইসলামকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যার হুমকি দেন অভিযুক্ত সাব্বির আহমেদ। তিনি মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী উপজেলার সাগরনাল ইউনিয়নের উত্তর সাগরনাল গ্রামের মৃত সামছ উদ্দিনের ছেলে।

সংবাদের ভিডিও প্রকাশিত হওয়ার পর শত শত মানুষ সামাজিক মাধ্যমে কমেন্ট করে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিচার দাবি করেছেন।

সাংবাদিক মনিরুল ইসলাম জানান, “আমি হুমকির কল রেকর্ড করে জুড়ী থানার অফিসার ইনচার্জের অফিসিয়াল নাম্বারে পাঠিয়েছি। বর্তমানে আমি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”

জুড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুরশেদুল আলম ভূঁইয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “হুমকির অডিও রেকর্ড শুনেছি। অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”



Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url