বড়লেখা ভূমি অফিসে খতিয়ান জালিয়াতি: সাবেক প্রধান সহকারিসহ চারজন কারাগারে
বড়লেখা ভূমি অফিসে খতিয়ান জালিয়াতি: সাবেক প্রধান সহকারিসহ চারজন কারাগারে
নিজস্ব প্রতিবেদক, বড়লেখা:
মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলা ভূমি অফিসে ভয়াবহ খতিয়ান জালিয়াতির ঘটনা উদ্ঘাটিত হয়েছে। সরকারি ভূমি ভুয়া খতিয়ানে যুক্ত করে নামজারির মাধ্যমে রেকর্ডভুক্ত করার অভিযোগে সাবেক প্রধান সহকারি কাম ষাট মুদ্রাক্ষরিক, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও দুইজন ভূমি মালিকসহ চারজনকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন—বড়লেখা উপজেলা ভূমি অফিসের সাবেক প্রধান সহকারি কাম ষাট মুদ্রাক্ষরিক রাসেন্দ্র কুমার দাস (বর্তমানে কর্মরত শ্রীমঙ্গল উপজেলা ভূমি অফিস), পরিচ্ছন্নতাকর্মী কাব্য চন্দ এবং দুইজন ভূমি মালিক। অভিযুক্তদের মধ্যে একজন সহকারি ভূমি কর্মকর্তা মজিদ মিয়ার নামও উঠে এসেছে, যিনি ঘুষের বিনিময়ে খতিয়ানভুক্ত জমির ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করেন।
সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালে আব্দুল জব্বার গং নামজারির জন্য দুটি দাগের একটি খতিয়ান দাখিল করেন। অভিযোগ রয়েছে, রাসেন্দ্র কুমার দাস ও কাব্য চন্দ মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে উক্ত খতিয়ানে সরকারি ১/১ খতিয়ানের ‘খ’ তফশিলভুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ দাগের ১২ শতাংশ ভূমি অবৈধভাবে যুক্ত করেন। তারা তৎকালীন এসিল্যান্ডের স্বাক্ষর জাল করে ভলিয়ম বইয়ে রেকর্ডও তৈরি করেন।
এছাড়া, সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারি ভূমি কর্মকর্তা মজিদ মিয়া জালিয়াতির মাধ্যমে নামজারি সম্পন্ন হওয়া খতিয়ানের ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করে দেন, যা পুরো প্রক্রিয়াকে আরও সন্দেহজনক করে তোলে।
বিষয়টি সম্প্রতি উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার শামসুল হুদার দৃষ্টিগোচর হলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সহকারি কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ আসলাম সারোয়ারকে অবহিত করেন। এসিল্যান্ড তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে অভিযুক্তদের ডেকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং আইনগত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন। পরে চারজনকে আটকের পর বড়লেখা থানায় সোপর্দ করা হয়।
এ ব্যাপারে সার্ভেয়ার শামসুল হুদা বাদী হয়ে পাঁচজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় খতিয়ান জালিয়াতি ও সরকারি দলিলে স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগ আনা হয়েছে।
বড়লেখা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শেখ মো. কামরুজ্জামান জানান, “খতিয়ান জালিয়াতির মামলায় গ্রেফতার চার আসামিকে শুক্রবার (৮ মে) দুপুরে মৌলভীবাজার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।”
সহকারি কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ আসলাম সারোয়ার বলেন, “ভূমি অফিসের দুইজন কর্মচারী এবং তিনজন ভূমি মালিক মিলে খতিয়ান জালিয়াতির ঘটনায় জড়িত থাকার প্রমাণ মেলায় তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।”
এ ঘটনায় বড়লেখায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোতে এ নিয়ে শুরু হয়েছে তদন্ত ও নজরদারি।
সূত্র: এখানেই ক্লিক করুন
