কুলাউড়ায় প্রথম প্রান্তিক মূল্যায়নে প্রশ্নপত্র দুর্নীতি

 

কুলাউড়ায় প্রথম প্রান্তিক মূল্যায়নে প্রশ্নপত্র দুর্নীতি: সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়

কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি:
মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলায় প্রথম প্রান্তিক মূল্যায়ন পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও বিতরণে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা শিক্ষা অফিসের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের ছত্রছায়ায় পরিচালিত একটি চিহ্নিত সিন্ডিকেট অতিরিক্ত অর্থ আদায়, পক্ষপাতদুষ্ট প্রশ্নপত্র প্রণয়ন এবং আর্থিক অনিয়মে জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় শিক্ষক ও অভিভাবকরা।

স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার ১৯৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ২৩ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য প্রশ্নপত্র ছাপাতে প্রকৃত খরচ হয়েছে ৮২ হাজার ৮১৪ টাকা। অথচ বিদ্যালয়গুলো থেকে আদায় করা হয়েছে প্রায় দ্বিগুণ অর্থ। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির জন্য প্রতি সেট প্রশ্নে ৭ টাকা এবং তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির জন্য ১১ টাকা করে নেওয়া হলেও সিলেটের আনোয়ারা প্রিন্টিং প্রেস থেকে ছাপানো প্রশ্নপত্রের প্রকৃত মূল্য যথাক্রমে ৩ ও ৪ টাকা মাত্র।

এই অনিয়মের মূল পরিকল্পনায় রয়েছেন উপজেলা শিক্ষা অফিসের সহকারী কর্মকর্তা সৌরভ গোস্বামী, যিনি প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও ছাপানো কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি তার অনুসারী ও মতাদর্শের ঘনিষ্ঠ কিছু শিক্ষককে দিয়ে পুরো কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

প্রশ্নপত্র তৈরির কাজে যুক্ত বিতর্কিত শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন—সামছুন নাহার বেগম, আব্দুল বাছিত, মিলন চন্দ্র নাথ, অনন্ত কুমার দত্ত, সজ্জিত দাশ, প্রশান্ত দত্ত, রন্টু চন্দ্র শীল এবং অরুন্ধুতি ভট্টাচার্য্য। এদের অনেকে অতীতে রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব ও নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত।

স্থানীয় শিক্ষকরা অভিযোগ করেন, শিক্ষা অফিসের নির্দেশের বাইরে মতামত দেওয়ার সুযোগ নেই। প্রশ্নপত্রের মান, নির্ভুলতা কিংবা স্বচ্ছতা নিয়ে কোনো আলোচনা করা নিষিদ্ধ। দীর্ঘদিন ধরে একজন কর্মকর্তার একক কর্তৃত্বের ফলে শিক্ষা ব্যবস্থায় একটি পক্ষপাতদুষ্ট ও দমনমূলক পরিবেশ গড়ে উঠেছে।

এ বিষয়ে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা সৌরভ গোস্বামী বলেন, “প্রশ্ন তৈরিতে যে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হয়েছে, তা যাতায়াত খরচ, সম্মানী ও অন্যান্য ব্যয়ে খরচ করা হয়েছে। তবে এখনও সম্পূর্ণ হিসাব চূড়ান্ত হয়নি।”

উপজেলা শিক্ষা অফিসার ইফতেখায়ের হোসেন ভূঁঞা বলেন, “যে অভিযোগ উঠেছে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শফিউলি আলম জানান, “প্রশ্নপত্র তৈরিতে অতিরিক্ত অর্থ আদায় অনৈতিক। লিখিত অভিযোগ পেলে আমরা যথাযথ তদন্ত করব।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন বলেন, “পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।”

শিক্ষকদের একাংশ মনে করেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করায় শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে পড়ছে।
(তথ্যসূত্র: কালের কণ্ঠ, পুনর্গঠিত)



Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url