ইট সলিংয়ে বালুর পরিবর্তে মাটি! জুড়ীতে উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ
ইট সলিংয়ে বালুর পরিবর্তে মাটি! জুড়ীতে উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক, জুড়ী
মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার পূর্বজুড়ী ইউনিয়নে ইউনিয়ন উন্নয়ন সহায়তা তহবিল (ইউজিডিএফ) প্রকল্পের আওতায় নির্মাণাধীন একটি রাস্তায় ইট সলিংয়ের কাজে বালুর পরিবর্তে মাটি ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে ইউনিয়নের দক্ষিণ বড় ধামাই গ্রামে। সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য ও ঠিকাদারের বিরুদ্ধে এমন অনিয়মে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ২নং পূর্বজুড়ী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ বড় ধামাই গ্রামে হাজী নূর আলী মিয়ার বাড়ির সামনে থেকে মজর আলীর বাড়ির সম্মুখ পর্যন্ত রাস্তার ইট সলিংয়ের কাজ চলছে। প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী ইট বিছানোর পর বালু দিয়ে ফাঁকাগুলো ভরাট করার কথা থাকলেও বাস্তবে সেখানে ব্যবহার করা হচ্ছে মাটি। ফলে অল্প বৃষ্টিতেই রাস্তা কাদায় একাকার হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়রা জানান, মাটি ব্যবহারের কারণে রাস্তায় চলাচল করতে গিয়ে বড় ধরনের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ইটের নিচে কাদা জমে থাকায় হাঁটার সময় ইট নড়বড়ে হয়ে পড়ে, কোনো কোনো জায়গায় ইট দেবে গিয়ে কাদা ছিটকে পড়ে। এতে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
শাহীন আহমেদ নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “ইট সলিংয়ের একদিন পরেই বৃষ্টি হলো। পরদিন গিয়ে দেখি ইট তো নেই, শুধু কাদা আর মাটি। রাস্তার টিলার উপর যেখানে কাজ শেষ হয়েছে, সেখান থেকে নামতে কষ্ট হয়েছে। পিচ্ছিল হয়ে ছিলো, ইটও নড়ছিল। এটা কোনো উন্নয়ন কাজ হতে পারে না।”
বিষয়টি এলাকাবাসী স্থানীয় চেয়ারম্যান রুহেল উদ্দিনকে অবগত করলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ইউপি সদস্যকে ডেকে বালু ব্যবহারের নির্দেশ দেন। তবে ১০ দিন পেরিয়ে গেলেও নির্দেশনা বাস্তবায়ন হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
অভিযুক্ত ইউপি সদস্য রেজান আলী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমরা মাটি ব্যবহার করিনি। যেখান থেকে রাবিশ আনা হয়, সেদিন সম্ভবত একটু লাল রঙের রাবিশ এসেছে। এ কারণেই এলাকাবাসী ভুল বুঝেছে। এটা মাটি নয়, রাবিশ।”
তবে ইট সলিংয়ের কাজে মাটি ব্যবহারের বিষয়টি স্বীকার করেছেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রুহেল উদ্দিন। তিনি বলেন, “মূলত কাজ ঠিকঠাকই হয়েছে। শেষের দিকে কিছু অংশে রাবিশ কম থাকায় ভুলবশত কিছু মাটি পড়ে গেছে। হঠাৎ বৃষ্টি হওয়ায় সেটা কাঁদায় পরিণত হয়। আমি ইউপি সদস্যকে বলে দিয়েছি, জায়গাটি পরিষ্কার করে সেখানে বালু দিতে হবে। আমরা অপেক্ষা করছি বৃষ্টির পানি আগের মাটিগুলো ধুয়ে নিক, তারপর বালু দেয়া হবে।”
এ নিয়ে স্থানীয় জনগণের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ বিরাজ করছে। তাদের দাবি, ইউনিয়ন উন্নয়ন সহায়তা তহবিলের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে এমন অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় ভবিষ্যতে আরও বড় দুর্নীতি ও জনভোগান্তির সৃষ্টি হতে পারে।
