স্ত্রীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগে বড়লেখায় স্বামী গ্রেপ্তার
স্ত্রীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগে বড়লেখায় স্বামী গ্রেপ্তার
নিজস্ব প্রতিবেদক, বড়লেখা:
মৌলভীবাজারের বড়লেখায় স্ত্রীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগে সুয়েল আহমদ (২৮) নামের এক যুবককে পুলিশ আটক করেছে। মঙ্গলবার (২৮ মে) রাতে তাকে আটক করা হয়। নিহত গৃহবধূ নাদিয়া বেগম (২১) তালিমপুর ইউনিয়নের টেকাহালী গ্রামের বাসিন্দা এবং হাজী আব্দুল লতিফের কন্যা।
ঘটনার পর পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য প্রেরণ করে এবং বুধবার বিকেলে তা পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এ বিষয়ে নিহতের বাবা হাজী আব্দুল লতিফ বড়লেখা থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় জামাতা সুয়েল আহমদকে প্রধান আসামি ও একজনকে অজ্ঞাত আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে কুলাউড়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কামরুল হাসান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন বছর আগে বড়লেখা সদর ইউনিয়নের মাইজপাড়া গ্রামের প্রবাস ফেরত যুবক সুয়েল আহমদ তার আগের বিয়ের তথ্য গোপন রেখে নাদিয়া বেগমকে বিয়ে করেন। সম্প্রতি তার আগের বিয়ের বিষয়টি জানাজানি হলে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দাম্পত্য কলহ শুরু হয়। এর জের ধরে তিন দিন আগে নাদিয়া বাবার বাড়িতে চলে যান।
মঙ্গলবার দুপুরে সুয়েল শ্বশুরবাড়ি যান এবং আসরের আজানের পর ফিরে আসেন। পরবর্তীতে রাত ১২টার পর তিনি শ্বশুরকে ফোন করে জানান, নাদিয়া শয়নকক্ষে "কি যেন" করছে। পরিবারের সদস্যরা গিয়ে দেখেন, নাদিয়া ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছে, তবে তার পা মাটিতে ছিল। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নাদিয়ার চাচাতো ভাই ইসলাম উদ্দিন অভিযোগ করেন, এটি আত্মহত্যা নয়, পরিকল্পিত হত্যা। তার দাবি, সুয়েল অজ্ঞাত একজন সহযোগী নিয়ে ঘরে ঢুকে নাদিয়াকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করে এবং পরে আত্মহত্যা হিসেবে সাজাতে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখে। সুয়েল ঘটনার পর নাদিয়ার মোবাইল ফোন জোরপূর্বক নিজের আয়ত্তে নিতে চেয়েছিলেন, যাতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মুছে ফেলা যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বড়লেখা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আবুল কাশেম সরকার জানান, নিহতের লাশ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে সুয়েল আহমদকে আটক করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
