চা-শ্রমিক দিবস নেই, কষ্টগুলো প্রতিদিনেরই: বড়লেখার চা-বাগান শ্রমিকদের জীবনসংগ্রাম

 


চা-শ্রমিক দিবস নেই, কষ্টগুলো প্রতিদিনেরই: বড়লেখার চা-বাগান শ্রমিকদের জীবনসংগ্রাম

নিজস্ব প্রতিবেদক, বড়লেখা:

২০ মে ‘চা শ্রমিক দিবস’ হলেও বড়লেখার চা-বাগানে নেই কোনো আয়োজন, নেই কোনো স্মরণ বা সম্মাননা। অথচ দিনের পর দিন, বছরের পর বছর এই মানুষগুলো ঘামে ভিজিয়ে যাচ্ছেন দেশের অর্থনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ খাত—চা শিল্পকে। দিবসের আনুষ্ঠানিকতা না থাকলেও, বড়লেখার চা শ্রমিকদের জীবনজুড়ে প্রতিদিনই যেন কষ্ট আর বঞ্চনার এক দীর্ঘ ইতিহাস।

এই অঞ্চলের বেশিরভাগ চা শ্রমিকই বংশ পরম্পরায় এই পেশায় জড়িত। ভোরের আলো ফোটার আগেই শুরু হয় তাদের কর্মব্যস্ততা। একজন শ্রমিককে প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ কেজি পর্যন্ত চা পাতা তুলতে হয়, বিনিময়ে মেলে দৈনিক ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা মজুরি। অনেক সময় সেই মজুরি সময়মতো মেলে না, আবার মজুরির বাইরে বাড়তি কোনো সুবিধাও পান না তারা।

চা শ্রমিক রাধা রানী বলেন, “সকাল ছয়টা থেকে দুপুর পর্যন্ত বাগানে পাতা তুলতে হয়। এরপর আবার পানির অভাবে কষ্ট করে রান্না, সন্তানদের দেখাশোনা। বৃষ্টিতেও ছুটি নাই, রোদেও নাই। এইভাবে চলতেছি অনেক বছর।”

অন্যদিকে চা শ্রমিক পরিবারের শিক্ষাব্যবস্থা এখনো অপ্রতুল। অনেকেই চতুর্থ বা পঞ্চম শ্রেণির পর আর এগোতে পারেন না। শিক্ষার অভাবে তারা শ্রমিকের গণ্ডি পেরোতে পারেন না—এই দারিদ্র্য ও শ্রমজীবনের এক বন্ধ চক্রে আটকে আছেন তারা।

তাদের থাকার জায়গাগুলোও অনেকটাই জরাজীর্ণ। একটি ছোট টিনশেড ঘরে কখনও ৫-৬ জন সদস্য বাস করেন। বিশুদ্ধ পানি, চিকিৎসা কিংবা নারীদের স্বাস্থ্যসেবা—সব কিছুতেই রয়েছে সীমাহীন ঘাটতি।

চা শ্রমিক দিবস রাষ্ট্রীয়ভাবে এখনো স্বীকৃতি পায়নি। বড়লেখার শ্রমিকদের অভিমত, তারা কোনো আনুষ্ঠানিকতা চান না, বরং চান ন্যায্য মজুরি, মানবিক জীবন ও সন্তানদের জন্য শিক্ষার সঠিক সুযোগ।

চা শ্রমিক সমাজের এই নীরব অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়ার এখনই সময়। যে শ্রমিকদের কষ্টে প্রতিদিন তৈরি হচ্ছে লাখ লাখ টাকার চা, সেই শ্রমিকদের জীবন যেন চায়ের কাপের উষ্ণতার মতো কিছু সময়ের জন্য হলেও কারো দৃষ্টিতে পড়ে—এমনটাই প্রত্যাশা তাদের।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url