সহায়তার অঙ্ক হাজার ছাড়ালেও ৭০০ টাকার’ বিভ্রান্তি ভিডিও বিতর্কে নিহত মুজিবুরের স্ত্রীর স্বীকারোক্তিতে চাঞ্চল্যকর মোড়
কুলাউড়া সীমান্তে নিহত মুজিবুরের কবর জিয়ারতে গত চার দিন পূর্বে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর কেন্দ্রীয় দুই নেতা নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারি এবং সারজিস আলম সেখানে উপস্থিত হন। জিয়ারত শেষে তারা নিহতের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
এসময় এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী উপস্থিত সবাইকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “যার পকেটে যা আছে, তা নিহতের পরিবারের হাতে তুলে দিন।” তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে উপস্থিত নেতাকর্মী ও সংশ্লিষ্টরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। পরে সংগৃহীত অর্থ তিনি নিজ হাতে নিহত মুজিবুরের স্ত্রীর কাছে তুলে দেন।
তবে ঘটনার পরদিন কন্টেন্ট ক্রিয়েটর জাফর ইকবাল নিহতের বাড়িতে গিয়ে একটি ভিডিও ধারণ ও প্রকাশ করলে বিষয়টি নতুন করে আলোচনার জন্ম দেয়। ভিডিওতে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, এনসিপির নেতারা মাত্র ৭০০ টাকা সহায়তা দিয়েছেন।
এ নিয়ে এলাকায় সমালোচনা শুরু হলে এনসিপির স্থানীয় নেতারা বিষয়টি নিয়ে ভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন। তারা জানান, কেন্দ্রীয় দুই নেতা মূলত কবর জিয়ারতের উদ্দেশ্যে সেখানে গিয়েছিলেন, পূর্বপরিকল্পিতভাবে অর্থ সহায়তা দেওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত ছিল না। তবে পরিবারের আর্থিক অবস্থা বিবেচনায় উপস্থিত ব্যক্তিরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে সহায়তা করেন।
স্থানীয় নেতাদের দাবি, সহায়তার পরিমাণ ৭০০ টাকা নয়; বরং কয়েকজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি পৃথকভাবে ২০০০, ১০০০ এবং ৫০০ টাকা করে প্রদান করেছেন। এমনকি লাইভ ভিডিওতেও এসব সহায়তার প্রমাণ দেখা যায় বলে তারা উল্লেখ করেন।
পরবর্তীতে স্থানীয় সাংবাদিক ও সচেতন মহলের অনুসন্ধানে এ ঘটনায় নতুন মোড় নেয়। অনুসন্ধানে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য,নিহত মুজিবুরের স্ত্রী নিজেই স্বীকার করেন যে, তিনি ভুলবশত প্রাপ্ত অর্থ এক জায়গায় সংরক্ষণ করেছিলেন। পরে নিজের শাশুড়ির হাতে ৭০০ টাকা তুলে দেওয়ার কারণেই পুরো বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়।
এ ঘটনায় এখনো স্থানীয় মহলে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। অনেকেই বলছেন, প্রকৃত তথ্য যাচাই ছাড়া এ ধরনের বিভ্রান্তিকর উপস্থাপন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি করে এবং জনমনে ভুল বার্তা পৌঁছে দেয়।
